এলআইসিকে লাইসেন্স প্রদান; আছে সম্ভাবনা ও শঙ্কা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

এলআইসিকে লাইসেন্স প্রদান; আছে সম্ভাবনা ও শঙ্কা

অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে প্রথমবারের মতো কোনো বিদেশি বিমা কোম্পানি বাংলাদেশে নিবন্ধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছে। যাবতীয় শর্ত মেনে এরই মধ্যে বিমা ব্যবসার জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নিকট থেকে নিবন্ধন পেয়েছে ভারতীয় সরকারি লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এলআইসি)।lic

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ মালিকানায় কোম্পানিটি ‘এলআইসি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করবে।

এদিকে এলআইসিকে দেওয়া এই অনুমোদন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বিমা খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

তারা বলছেন, সরকার যে যুক্তিতে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানকে দেশে ব্যবসা করা অনুমোদন দিয়েছে তাতে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। কারণ এর মাধ্যমে একটি অসম প্রতিযোগীতা এবং একচেটিয়া ব্যবসার পরিবেশ তৈরি হবে। ফলে আরও পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দেবে দেশীয় বিমা কোম্পনিগুলোর।

তবে বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে বিদেশি দক্ষ কোম্পানি দেশে ব্যবসায় করলে দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি ভালো প্রতিযোগীতার পরিবেশ তৈরি হবে। এতে দেশীয় কোম্পানি নিজেদেরকে আরও এগিয়ে নিতে সচেষ্ট হবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এর নির্বাহী মোঃ কুদ্দুস খান মঙ্গলবার অর্থসূচককে বলেন, বিমা ব্যাবসা বাংলাদেশের অনেক বড় একটি অর্থনৈতিক খাত হলেও দীর্ঘ দিন ধরে এটি পিছিয়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত জিডিপির ১ শতাংশ অবদানও রাখতে পারেনি এ খাত।

তার মতে, এর পিছনে মূল কারণ হলো- বিমা খাতে আমাদের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার অভাব। তাছাড়া দক্ষ জনবলও একটি বড় সমস্যা। এ অবস্থায় আরও ভালো কোম্পানি আসলে দেশীয় বিমা কোম্পানির জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি বড় ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসাইন অর্থসূচককে বলেন, সরকার বার বার বলছে আমাদের দক্ষতা-যোগ্যতার অভাব। এটা ঠিক; কিন্তু আমরা সরকারকে অনেকবার বলছি বিমা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য একটি ভালো ইন্সিটিটিউশন দরকার। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ ‌থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি । আইডিআরএ পরিচালিত যে ইন্সটিটিউট রয়েছে সেটি ততটা কার্যকর নয়। ফলে আমরা নিজেদের উদ্যোগে কিছু ট্রেইনিং পরিচালনা করি। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ অবস্থায় প্রতিযোগীতা যদি যথাযথ না হয় তাহলেতো হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কারণ এলআইসি অনেক পুরোনো এবং অভিজ্ঞ একটি কোম্পানি। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগীতা করার মতো যোগ্যতা আমাদের খুব কম কোম্পানি আছে। তবে এ ক্ষেত্রে গ্রাহকরা লাভবান হবে বলেও জানান তিনি।

আইডিআরএ সূত্রে জানা গেছে রাজধানী ঢাকার গুলসানে এলআইসির ঢাকা অফিসের মাধ্যমে খুব শিগগিরি এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবে।

এর পরিশোধিত মূলধন হবে ১০০ কোটি টাকা, যার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৫০ কোটি টাকা সরবরাহ করবে এলআইসি। আর বাকি ৫০ শতাংশের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশিদের হাতে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ অর্থাৎ ১০ কোটি টাকা আসবে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৪০ কোটি টাকা পুঁজিবাজারের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য রাখা হবে।

শুরুতে ২০১৩ সালের এপ্রিলে ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ব্যবসা করার অনুমোদন চায় ভারতের বিমা বাজারের ৬ দশক ধরে সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ কারী এই প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে সবচেয়ে বড় এই বিমা কোম্পানিটির সম্পদের পরিমান আনুমানিক ২৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই বিভাগের আরো সংবাদ