শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে চিংড়ি শিল্প
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে চিংড়ি শিল্প

বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি আমদানিতে সব শর্ত তুলে নিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এর ফলে এ অঞ্চলে বাংলাদেশি হিমায়িত পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। দামও বাড়বে এ পণ্যের। আর এমনটি হলে খুব শিগগির এ শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছে হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন- বিএফএফইএ।

আজ শনিবার সংগঠনটির সভাপতি এস এম আমজাদ হোসাইন অর্থসূচককে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় সুখবর। এতে শুধু ইউরোপ নয়, অন্য আমাদানিকারক দেশ যেমন আমেরিকা, রাশিয়া, জাপানও এ দেশের পণ্যের মান সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পাবে। আর এর সুফল ভোগ করবে উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে রপ্তানিকারী পর্যন্ত।

বিএফএফইএ সূত্র জানায়, বর্তমানে ইউরোপে চিংড়ি ও মৎস্য পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে এফআইকিউসি, বিসিএসআইআর, বিএইসি, বিএআরআই এই চারটি ল্যাবে বাধ্যতামূলক ৩৫টি টেস্ট করা হয়। এসব টেস্টে ৫২ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। টেস্টগুলো অব্যাহত থাকবে। তবে অ্যানালিটিক্যাল টেস্টগুলোর জন্য অন্যান্য ডকুমেন্টের সাথে টেস্ট সার্টিফিকেট সংযুক্ত করতে হবে না। বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম দেশ যে এই টেস্টের বিপরীতে কোনো সার্টিফিকেট দিতে হবে না।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার বলেন, অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াকে বর্তমানে ২০ শতাংশ টেস্ট করে সার্টিফিকেট দিয়ে ইউরোপে রপ্তানি করতে হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য সনদ দেওয়ার শর্ত প্রত্যাহার করায় ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশের চিংড়ি শিল্প।

বিএফএফইএ জানায়, এপ্রিল মাসের ২০ থেকে ৩০ তারিখে ইইউ হতে একটি ৩ সদস্যের অডিট টিম বাংলাদেশে আসে। তারা এখানকার পানি, মাটি, চিংড়ি মাছ, খাদ্য, হ্যাচারী, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ট্রলার, চিংড়িতে ব্যবহৃত ওষুধ, সরকারী ল্যাবসমূহ ইত্যাদি পরিদর্শন করে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি ও মাছের মান ইউরোপের সম পর্যায়ের হওয়াতে সন্তোষ প্রকাশ করে। সম্প্রতি ইইউ পর্লামেন্ট বাংলাদেশের মাছে অ্যানালিটিক্যাল টেস্ট এর প্রয়োজন নেই বলে জানায়। ২০০৮ সালে এই টেস্ট সার্টিফিকেট আরোপ করা হয়।

আবুল বাশার বলেন, বর্তমানে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য পণ্য রপ্তানি হয়। অর্থাৎ গত অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৫৬৮ মিলিয়ন ডলার বা সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ইউরোপেই রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার হিমায়িত চিংড়ি ও মৎস্য পণ্য। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫৬টি দেশে বাংলাদেশের চিংড়ি ও মাছ রপ্তানি হয়ে থাকে।

অর্থসূচক/মেহেদী/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ