বোমাং সার্কেলের খাজনা আদায়ের উৎসব শুরু
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বোমাং সার্কেলের খাজনা আদায়ের উৎসব শুরু

আজ ১৮ ডিসেম্বর থেকে রান্দরবানে শুরু হচ্ছে বোমাং সার্কেলের ৩ দিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠান রাজপূণ্যাহ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় এক হেডম্যানের থেকে খাজনা গ্রহণের মাধ্যমে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন বান্দরবান বোমাং সার্কেল প্রধান রাজা বাহাদুর উ চ প্রু।

????????????????????????????????????

এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটিয়েছে পৌষের বৃষ্টি। তবে আয়োজক কমিটির তরফ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে সন্ধ্যার আগেই মেঘ কেটে গিয়ে উৎসবের আমেজ পাবে মেলা।

রাজস্ব ও খাজনা আদায় এ অনুষ্ঠানে বোমাং সার্কেলের দূর-দূরান্ত থেকে আগত ১১৫টি মৌজা প্রধান (হেডম্যান) ও ৯ শতাধিক গ্রাম প্রধানরা(কারবারি) রাজার সম্মানে নির্ধারিত বাৎসরিক খাজনা প্রদান করেন।

রাজপূণ্যাহ মূলত রাষ্ট্রের পক্ষে ভূমিকর আদায়ের অনুষ্ঠান।বাংলাদেশের অন্যসব এলাকায় তহসিল অফিসের মাধ্যমে সরকার বার্ষিক ভূমিকর আদায় করে থাকে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের পক্ষে সার্কেল প্রধান বা রাজারা খাজনা আদায় করে থাকেন। খাজনা আদায় ও শাসন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে বৃটিশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি সার্কেলে ভাগ করে প্রতিটি সার্কেলে একজন করে সার্কেল প্রধান নিয়োগ দেয়। স্থানীয়ভাবে তারা ‘রাজা’ নামেই পরিচিত।

বান্দরবানের ৯৫টি মৌজা এবং কর্ণফুলী নদীর এপারে অবস্থিত রাঙ্গামটির ১৪টি মৌজা নিয়ে বোমাং সার্কেল গঠিত। ১৬তম রাজা কে এস প্রু’র মৃত্যুর পর সরকার রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠতম সদস্য উ চ প্রুকে রাজা নিয়োগ দেন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি সার্কেল প্রধান হিসেবে অভিষিক্ত হন।

১৬১৪ সালে মং শৈ প্রু প্রথম রাজা হিসেবে নিযুক্ত হন। ওই সময় থেকেই রাজারা খাজনা আদায় করলেও ১৮৭৫ সালে নবম রাজা বোমাংগ্রী থেত হ্নাইন প্রু আনুষ্ঠানিক কর আদায়ের রীতি হিসেবে ‘রাজপূণ্যাহ’ উৎসব প্রবর্তন করেন। সেই থেকে গত ১৩৮ বছর ধরে বোমাং রাজপরিবারের সদস্যরা বংশ পরম্পরায় এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৩৮তম উৎসব।

এই বিভাগের আরো সংবাদ