জাপানে স্বামীর পদবী ব্যবহারে রুল জারি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

জাপানে স্বামীর পদবী ব্যবহারে রুল জারি

বিয়ের আগে বাপের বাড়ি; বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি আর বৃদ্ধ বয়সে ছেলের বাড়ি। এই তিন বাড়িতেই কাটে মেয়েদের জীবন। সংসার সাজানো থেকে শুরু করে সবকিছুতে নিজের শ্রম থাকলেও নিজের বলে কিছুই থাকে না মেয়েদের। এমনকি নামটাও তার হয়ে থাকে না। জন্মের পর থেকে বাবার পদবী নিয়ে বড় হয় ছেলেরা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একই পদবী থাকে তার। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যায়। জন্মের পর বাবার পদবী এবং বিয়ের পর স্বামীর পদবী নিয়ে পরিচিত হতে হয় নারীদের।

মেয়েদের মতামতের মূল্য কখনই দেওয়া হয় না। ছোট থেকেই পরিবারের ইচ্ছাটাকেই নিজের ইচ্ছা হিসেবে মেনে নিতে হয়। এমনকি বিয়ের মতো বড় সিদ্বান্ত নিতেও পরিবারের মতামতকেই প্রাধান্য দিতে হয়। ফলস্বরূপ মেয়েদের বিয়ের পরও স্বামী ও তার পরিবারের ইচ্ছা-অনিচ্ছা, মতামতের ভিত্তিতেই সব বিচার-বিবেচনা করে চলতে হয়। নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে বিসর্জন দেওয়ার পাশাপাশি বাবার দেওয়া পদবীও পরিবর্তন করতে হয় মেয়েদের।

Japan couple

জাপানি দম্পতি।

বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্ত্রীর নামের পাশে স্বামীর নামের পদবী যোগ করার প্রচলন রয়েছে। তবে তা হয়তো কোনো দেশে আইনসিদ্ধ নয়। তবে এবার এই নিয়মকে আইনে পরিণত করে রুল জারি করেছে জাপানের সুপ্রিম কোর্ট।

স্বামীর পদবী গ্রহণের বাধ্য-বাধকতার বিষয়ে জাপানের আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন দেশটির ৩ নারী এবং এক দম্পতি। এই নিয়মকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছেন তারা। কিন্তু তাদের আবেদনের বিরুদ্ধে রায় দেয় আদালত।

জাপানের ৯৬ শতাংশ মহিলা বিয়ের পর তাদের স্বামীর নামের পদবী গ্রহণ করেন। নামের সঙ্গে স্বামীর পদবী ব্যবহার না করতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল দেশটির নারী অধিকার কর্মীরা।

সম্প্রতি তাদের এই আন্দোলনকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে দেশটির আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এক নির্দেশে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর নামের পদবী অবশ্যই এক হতে হবে।

প্রসঙ্গত, ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত বিয়ের পরও নিজের পারিবারিক পদবী ব্যবহার করতেন জাপানের নারীরা। ১৮৯৮ সালে ওই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। পরিবারের মহিলা ও শিশুদের ক্ষেত্রে পরিবারের পুরুষ প্রধানের নাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয় দেশটিতে।

জাপানে বিবাহ বিচ্ছেদের পর যেকোনো সময় পুরুষরা বিয়ে করার নিয়ম থাকলেও ৬ মাসের মধ্যে আবার বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা ছিল নারীদের। তবে পদবী ব্যবহারে বাধ্যতামূলক করা হলেও ৬ মাসের মধ্যে আবার বিয়ের বিষয়ে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল- তা তুলে নিয়েছে জাপানের আদালত।

এই বিভাগের আরো সংবাদ