‘ভ্যাটের বোঝা নিম্নবিত্তের কাঁধে বেশি’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘ভ্যাটের বোঝা নিম্নবিত্তের কাঁধে বেশি’

বাংলাদেশে উচ্চ আয়ের ব্যক্তির তুলনায় নিম্ন আয়ের ব্যক্তির কাঁধে ভ্যাটের বোঝা বেশি চাপে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে ‘ফেয়ার ট্যাক্স মনিটর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ ও আলোচন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনটি তৈরি করে সুশাসনে জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র।

ফেয়ার ট্যাক্স মনিটর বাংলাদেশ গবেষণাটি একযোগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সেনেগাল ও উগান্ডাতে করা হয়। গবেষণায় ৭টি এরিয়াতে (কর বণ্টনব্যবস্থা, কর বোঝা, রাজস্ব পর্যাপ্ততা, কর অবকাশ, কর প্রশাসনের কার্যকারিতা, সরকারি ব্যয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা) তথ্য ও ফলাফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল ও তথ্য-প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সুপ্র পরিচালক এলিসন সুব্রত বাড়ৈ। গবেষণায় দেখা যায়, ভ্যাটের বোঝা উচ্চ আয়কারী ব্যক্তির (৪.৫৬%) তুলনায় নিম্ন আয়কারীর ব্যক্তির (৬.৯২%) কাঁধে বেশি চাপে।

প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এলিসন সুব্রত বাড়ৈ বলেন, ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কর-জিডিপির অনুপাত ১২.৪ শতাংশ টার্গেট ধরা হলেও অর্জিত হয়নি। ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতেও এ লক্ষ্যমাত্রা ১৪.১ শতাংশ ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণেও সংশয় রয়েছে।

তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখলেও কালো টাকার উৎস বন্ধে সরকারকে জোর দেওয়া উচিৎ। কর প্রশাসনের জনবলের অভাব আছে। তবে তাদের স্বচ্ছতা ওজবাবদিহিতার অভাব রয়েছে অনেক বেশি। কর প্রশাসন খুবই কেন্দ্রীভূত ব্যবস্থা। এনবিআর এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের তথ্য-উপাত্তে গড়মিলও রয়েছে।

অন্য ৪টি দেশের তুলনায় সাম্যতার দিক থেকে বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে থাকলেও কর ছাড়ের বিষয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। সরকারি ব্যয় কাঠামোতে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বরাদ্দ চিত্রের উন্নতি হচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

ভ্যাট মুক্তি সুবিধা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ যাবতীয় জনবান্ধব সেবাখাতগুলিতে থাকা উচিত বলে প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, কোনো আলোচনা ছাড়াই সম্পূরক বাজেট সংসদে পাস হয়ে যায়। অথচ এই বাজেট নিয়েই বেশি আলোচনা করা উচিৎ। কারণ সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও প্রশ্ন তোলার সুযোগথাকে। কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, সাম্য, ন্যায্য ও অগ্রগামী করার বিষয়ে আমরা পিছিয়ে আছি। এর মূল কারণ এখনো আমাদের মধ্যে ঔপনিবেশিক মনমানসিকতা রয়ে গেছে।

এফবিসিসিআইর উপদেষ্টা মানজুর আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে ১ টাকা কর পরিশোধ করতে ২-৩ টাকা খরচ হয়। কর কাঠামোকে ন্যায্য ও ফেয়ার করতে হলে সব পক্ষকেনিয়ে একটা মনিটরিং ইউনিট গঠন করতে হবে; যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারাও যুক্ত থাকবেন।

সিপিডির সিনিয়র গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ভ্যাট দেওয়াকে ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা একটি ব্যয় হিসাবে দেখে। তাই স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষ কর প্রদানেরক্ষেত্রে একটু রক্ষনশীলতার পরিচয় দেয়। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অভিলাস বাস্তবায়নে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন পড়বে সরকারের তাই দ্রুত এ বিষয়ে কড়া নজর দিতে হবে।

সুপ্র চেয়ারপার্সন আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ, কলামিষ্ট এমএস সিদ্দিকী প্রমুখ।

অর্থসূচক/মাইদুল

এই বিভাগের আরো সংবাদ