‘২০২০ সালের মধ্যে ৮% প্রবৃদ্ধি সম্ভব’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘২০২০ সালের মধ্যে ৮% প্রবৃদ্ধি সম্ভব’

Dr koushik Basu

রোববার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি, বাংলাদেশ অ্যান্ড রিজিওনাল কো-অপারেশন: প্রবলেম অ্যান্ড প্রসপেক্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক বসু।

বাংলাদেশের চলমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ অর্জন করা অসম্ভব নয় বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. কৌশিক বসু।

রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমি, বাংলাদেশ অ্যান্ড রিজিওনাল কো-অপারেশন: প্রবলেম অ্যান্ড প্রসপেক্ট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এক গণবক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ড.কৌশিক বসু আশা প্রকাশ করেন, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হবে ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধি একজন অর্থনীতিবীদ হিসেবে আমার কাছে খুবই ইতিবাচক। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অবকাঠামোর উন্নয়ন।

উন্নত অর্থনীতির দেশে পৌঁছাতে বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ চীন, সিঙ্গাপুর ও ভারতকেও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অবকাঠামো খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারলে এটি মোকাবেলা করা বাংলাদেশের পক্ষে মোটেও অসম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংকের এই সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে যদি বিশ্লেষণ করা হয় তাহলে দেখা যায়, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিলো ৩৩০ ডলার, বর্তমানে ১৩১৪ ডলার। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে চারগুণ হয়েছে।

১৯৯২ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ছিলো মোট জিডিপির দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। যেটাকে মোটামুটি শূন্যই বলা চলে। বর্তমানে এটি জিডিপির ১ শতাংশের উপরে। একইভাবে বেড়েছে দেশীয় বিনিয়োগের হার। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের ৩০ শতাংশ অবদান রাখছে দেশীয় বিনিয়োগ। এছাড়া অন্যান্য সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অভাবনীয় অবদান রেখেছে। তবে ধারা অব্যাহত রাখতে দরকার দক্ষ পলিসি।

শুধু ভালো নীতি একটি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে না উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের এই প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, এর জন্য নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি তদারকি ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা জরুরী। একই সঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটালেই অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে দাড়াবে।

এসময় তিনি বলেন, প্রতিটি পলিসিরই কিছু গ্লোবাল রিঅ্যাকশন থাকে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হয়। কিছু লোক আছে যারা বিশ্বায়নের সমালোচনা করে। কিন্তু আমি মনে করি বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এটি একটি অর্থহীন তর্ক। কারণ বিশ্বায়ন এখন গ্রাভিটির মতো।

তিনি বলেন, আমরা এটি পছন্দ করি আর না করি বিশ্বব্যবস্থায় এখন একটি বাস্তবতা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ সুবিধা ভোগ করছে। এ অঞ্চলে চীন অন্যতম একটি দেশ যেটি বিশ্বায়নের সুবিধা সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে। একইভাবে ভারত এবং বাংলাদেশও এর সুবিধা পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পালের সঞ্চালনায় গণবক্তব্যে সভাপতিত্ব করেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিকভাবে এশিয়ার টাইগার হওয়া সম্ভব। এজন্য বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের দরজা উন্মুক্ত করে দিতে হবে। তবে কিছু নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই সরকারের হাতে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত আমাদের অন্যতম বাণিজ্যিক সহযোগী। তাদেরকেও আমাদের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বিষয়ে তিনি বলেন, রিজার্ভ অর্থনীতির মূল ভিত্তি। আমাদের রিজার্ভই অর্থনীতির শক্তি। আমাদের যে রিজার্ভ রয়েছে তা অর্থনীতির খারাপ সময়ে ব্যবহারের জন্য। তারপরও প্রয়োজন হলে সুসময়েও আমরা রিজার্ভের অর্থ কাজে লাগাবো।
অর্থসূচক/এস এম শাফায়াত
এই বিভাগের আরো সংবাদ