তসলিমার মরণোত্তর দেহদান
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

তসলিমার মরণোত্তর দেহদান

মেডিকেল চিকিৎসার সুবিধার্থে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন মরণোত্তর দেহদান করার ঘোষণা দিয়েছেন।

Taslima Nasreenআজ শুক্রবার নিজের ফেসবুক পেজে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এর আগে তসলিমা নাসরিন কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কলকাতা মেডিকেলে মরণোত্তর দেহদানের জন্য একটি চুক্তি করেন। কিন্তু কলকাতায় থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর নতুন করে আবারও তিনি নিজের মরণোত্তর দেহদানের কথা জানালেন।

নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে পেজে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘ছবিগুলো গতকাল রাতের। নতুন একটি শাড়ি পরেছিলাম। নাল্লি (চেন্নাইয়ের প্রসিদ্ধ শাড়ীর দোকান) থেকে কেনা শাড়ি। এক বন্ধুর দেওয়া। বন্ধুটির সঙ্গেই বেরিয়েছিলাম।’

মরণোত্তর দেহদান প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এক লইয়ারের (আইনজীবী) কাছে গিয়েছিলাম। উইল (কাউকে স্বেচ্ছায় নিজের সম্পদ লিখে দেওয়া) করতে। আর মরণোত্তর দেহদান করতে। দেহদানের ব্যাপারে, যখন কলকাতায় ছিলাম, গণদর্পন সংস্থার সঙ্গে লেখাপড়া হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর পর কলকাতার মেডিকেল কলেজে দেহটা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা ওদেরই করার কথা ছিল। যেহেতু আমাকে কলকাতায় আর যেতে দেওয়া হয় না, সেহেতু সে আশায় জলাঞ্জলি দিতে হচ্ছে। যে শহর আমাকে জীবিত যেতে দিচ্ছে না, সে শহরে আমাকে মরলেও যেতে দেবে না। অথবা দিলেই বা যাব কেন? আমার বুঝি অভিমান হয় না?’

তিনি আরও লেখেন, ‘মরণোত্তর দেহদানটা তাই এমনভাবে করছি যে শহরেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করব, সে শহরের হাসপাতালে দেহটা দেওয়া হবে। দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলে এইমসে। নিউইয়র্কে করলে বুথ মেমোরিয়াল বা বেলভিউয়ে। মেডিকেল রিসার্চের কাজে মৃতদেহের প্রয়োজন তো পড়েই।’

বিতর্কিত লেখার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর কলকাতা, পরে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন এ লেখিকা। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ