মুসলিম ভ্রমণ ‘নিষিদ্ধ’: ট্রাম্পের ব্যবসায় ধাক্কা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক

মুসলিম ভ্রমণ ‘নিষিদ্ধ’: ট্রাম্পের ব্যবসায় ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হবে- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুঙ্কারকে আস্তাকুড়ে ফেলে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এখানকার বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের সব ধরনের পণ্য এখন বর্জন করছে।

trump

ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, পাকিস্তান ও তানজানিয়ার প্রায় ১৯৫টি আউটলেট থেকে দুবাইভিত্তিক একটি কোম্পানি তাদের এই ব্র্যান্ডের সব পণ্য সরিয়ে ফেলছে।

মার্কিন মিডিয়ায় প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে যাওয়া ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান লাইফস্টাইলের সিইও শচিন মুণ্ডা বলেন, আমরা ট্রাম্প হোমের সব পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি।

মুসলমানদের নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি ট্রাম্প অরগানাইজেশন। তার এমন বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য ব্যবসায়ীরাও হতাশা প্রকাশ করেন।

এ ধরনের মন্তব্য অনেক বেশি মর্মাহত করেছে জানিয়ে দুবাই প্রোপার্টি মুঘল কালাম আল হাবতুর সিএনএনকে বলেন, এই মুসলমানরাই তো যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে; তৈরি করে দিচ্ছে আমেরিকার কর্মসংস্থান। ট্রাম্প নিজেও তো ইসলামভিত্তিক অনেক দেশে বিলাসবহুল প্রোপার্টিস ও হোল্ডিংস গড়ে লাখ লাখ ডলার কামিয়ে নিচ্ছেন।

আগে ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন হাবতুর। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প নিজেই মুসলিম দেশগুলোতে তার ব্র্যান্ড ধ্বংস করে দিচ্ছেন। এখন কেউ তাকে গ্রহণ করবে না। এমনকি তার ব্যবসায়িক পার্টনাররাও তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশের উপর সম্প্রতি ‘পূর্ণ’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ায় এক বন্দুকধারী দম্পতির প্রাণঘাতী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জরিপে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকানদের প্রতি মুসলমানদের ‘ঘৃণা’ পুরো জাতিকেই ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে।

“যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের প্রতিনিধিরা নির্ণয় করতে না পারেন যে আসলে কি ঘটছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে রাখা উচিত”।

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন খাতের এই ব্যবসায়ীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন দেশটির রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, শিক্ষক ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা।  জাতিসংঘের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীরাও তার বক্তব্য নাকচ করেছেন।

ওই বক্তব্যকে ‘তিরস্কারযোগ্য, ক্ষতিকর ও উস্কানিমূলক’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ