নিজামীর আপিলের রায় ৬ জানুয়ারি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

নিজামীর আপিলের রায় ৬ জানুয়ারি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত। দুই পক্ষের শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস.কে.) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই দিন ঠিক করে দেয়।

Motiur Rahman Nijami

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী।

বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল।

জামায়াতে ইসলামীর আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আল বদর বাহিনীর প্রধান।

স্বাধীনতাকামী বাঙলির ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উঠে আসে।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন নিজামী। ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্রসহ নিজামীর করা আপিলে ১৬৮টি যুক্তি তুলে ধরে সাজার আদেশ বাতিল করে খালাস চাওয়া হয়। সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এই আপিলের ওপর চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর শুনানি শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এক মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের আদেশে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন নিজামীকে। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৩ নভেম্বর আপিল করেন তিনি। ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন তিনি। তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এ আপিলটি দাখিল করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়।

নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে আটটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। আর বাকি আটটি অভিযোগে তিনি খালাস পান।

এই বিভাগের আরো সংবাদ