হনুমানে যুক্ত হচ্ছে ভারত-শ্রীলঙ্কা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

হনুমানে যুক্ত হচ্ছে ভারত-শ্রীলঙ্কা

হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা হনুমান। বায়ু দেবতার পুত্র তিনি। হিন্দু পুরাণ রামায়ণে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে হনুমানকে। হনুমান পবননন্দন হিসেবে হিন্দুদের নিকট পূজনীয় তিনি। রামায়ণের মূল চরিত্রে রয়েছে রাম; হিন্দু ধর্মের অবতার তিনি। তারই অনুগত চরিত্র হিসেবে রামায়ণে হনুমানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে রামভক্ত হিসেবে পরিচিতি রয়েছে হনুমানের।

Honumaan Bridge

প্রস্তাবিত হনুমান সেতুর নকশা।

রামায়ণের কাহিনী অনুসারে সীতাকে উদ্ধারের জন্য লংকায় অভিযান চালিয়েছিলেন হনুমান। কিষ্কিন্ধ্যা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সাগরে পাথর ফেলে সেতুবন্ধন করেছিলেন বীর হনুমান। সেই পথ ধরেই বানরসেনা নিয়ে রাবণের দর্পিত নগরী লঙ্কায় প্রবেশ করেছিলেন ভগবান শ্রীরামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ। সেই থেকে রাম-রাবণের সম্পর্কে ছেদ। যা আজও ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে শত্রুতা জিয়ে রেখেছে।

ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে মিত্রের সম্পর্ক তৈরিতে আবারও আসছে হনুমান। দেবতা হনুমানের তৈরি পাথরের সেতুবন্ধনের ঐতিহ্য অনুসরণে ভারত মহাসাগরের পক প্রণালীর উপর তৈরি হচ্ছে হনুমান সেতু। একবিংশ শতাব্দীতে দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার।

চলতি বছরের মার্চ মাসে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে পক প্রণালীর উপরে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক দশক আগে একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল শ্রীলঙ্কার তরফ থেকে। সেই সময় দিল্লিতে ছিল ইউপিএ জোটের সরকার। কিন্তু দক্ষিণ ভারতের কিছু শরিক দলের বিরোধিতায় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেই সেতু তৈরির প্রস্তাবের কার্যকর হয়নি। শ্রীলঙ্কা সরকার সেই সময় এলটিটিই-র বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল। এই যুদ্ধে সেদেশের সংখ্যালঘু তামিল সম্প্রদায়ের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন- এমন অভিযোগে তখন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের বিরোধিতা করে ইউপিএ জোটের দক্ষিণ ভারতীয় শরিক দলগুলো। শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি নেই। দিল্লিতেও বদল ঘটেছে সরকারের।

ভারতের পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়করি জানান, দীর্ঘদিন পর ভারত মহাসাগরের পক প্রণালীতে সেতু নির্মাণে একমত হয়েছে দিল্লি এবং কলম্বো। এর নামকরণ হবে হনুমান সেতু। এই সেতু নির্মাণের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকও ৫০০ কোটি ডলার ঋণ দেবে।

তিনি বলেন, হনুমান সেতু তৈরি হলে ভারত-শ্রীলঙ্কার মধ্যে আন্তঃসংযোগ এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। সেইসঙ্গে বিদেশি বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও অনেক সুবিধা হবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের। রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষিণ উপকূলবর্তী বন্দরগুলির উপর মারাত্মক চাপ থাকায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা অনেক সময়ই কলম্বো বন্দর ব্যবহার করেন। এর ফলে খরচও অনেক বেড়ে যায়। পক প্রণালীর উপরে হনুমান সেতু নির্মিত হলে সেই সমস্যা থাকবে না।

এই বিভাগের আরো সংবাদ