দূষিত খাবারে মৃত্যু হয় সোয়া লাখ শিশুর
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

দূষিত খাবারে মৃত্যু হয় সোয়া লাখ শিশুর

প্রতিবছর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ বা ৬০ কোটি মানুষ দূষিত খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়। এদের মধ্যে ৪ লাখ ২০ হাজার জনের মৃত্যু হয়। দূষিত খাবারে মৃতদের এক তৃতীয়াংশই শিশু, যাদের বয়স ৫ বছরের কম।

Pollution

দূষিত পানি পান করছে এক শিশু।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষিত খাবার খেয়ে প্রতিবছর ১ লাখ ২৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে এই শিশুমৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

এতে আরও বলা হয়েছে, দূষিত খাবারের কারণে প্রতিবছর শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় ৫৫ কোটি মানুষ। এদের মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ডায়রিয়া আক্রান্তদের মধ্যে ২২ কোটি শিশু রয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে ৯৬ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিশুমৃত্যুর জন্য দায়ী সবচেয়ে ভয়াবহ রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম ডায়রিয়া। এছাড়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী, বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান ইত্যাদির মাধ্যমে খাবার দূষিত হয়। আর সেই অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে বমিভাব, ডায়রিয়ার মতো প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হয়।

এতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে প্রতিবছর দূষিত খাবার খেয়ে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ অসুস্থ হয়। এর মধ্যে মৃত্যু হয় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হিসেবে ক্যানসার, কিডনি ও যকৃৎ বিকল হয়। মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিভিন্ন অসুখ হয়। কম বয়সী শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রবীণেরা খাবারে দূষণের শিকার হন সবচেয়ে বেশি। টাইফয়েড জ্বর এবং হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বে যত মানুষের মৃত্যু হয়, তার অর্ধেকের বেশি ঘটনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এতে আরও বলা হয়, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে অনিরাপদ খাবারের ছড়াছড়ি বেশি। এ সব দেশে রান্নার কাজে বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা হয় না। তাই খাবারবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও ওই অঞ্চলে বেশি। এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত আইন এবং সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার না থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, খাবার উৎপাদন ও সরবরাহকারীদের পাশাপাশি ভোক্তাদেরও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নিরাপদ খাবারের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। আর সরকারকে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ