পৌর ভোট: ঋণখেলাপি প্রার্থী ধরতে মাঠে নামছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

পৌর ভোট: ঋণখেলাপি প্রার্থী ধরতে মাঠে নামছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের মধ্যে ঋণখেলাপি সনাক্তের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো। এজন্য সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।bangladesh-bank-logo

বৃহস্পতিবার সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক মনছুরা খাতুন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসারকে সরাসরি তথ্য সরবরাহের সুবিধার্থে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্র, শনি ও সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর সিআইবি সেল খোলা রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সিআইবি ডাটাবেজে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মাসিক ঋণতথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ৫০ হাজার টাকার নিচে বকেয়া ঋণস্থিতি সম্পন্ন ঋণখেলাপি এবং ৩১ অক্টোবরের পরবর্তীতে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজনে সরাসরি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরও ঋণখেলাপি শনাক্ত করতে প্রার্থীদের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো।

চিঠিতে, মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য পেতে সব প্রার্থীকে পূর্ণনাম, পিতার নাম, মাতার নাম, স্বামীর নাম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) নম্বর, করদাতা শনাক্তকরণ সংখ্যা (টিন), জন্ম তারিখ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সম্বলিত তথ্য সংযুক্ত ছক অনুযায়ী যথাযথভাবে পূরণ করে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো বরাবর পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তালিকা পাওয়ার পরই ঋণখেলাপি প্রার্থীদের তালিকা সরবারহ করা যাবে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত মঙ্গলবার ঋণখেলাপিদের বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই পরিপত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৯(২)(ঝ)(ঞ) এর বিধানবলে ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। নির্বাচনে যাতে ঋণ খেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণা করা যায় সেজন্য এ সংক্রান্ত তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেয়া হয়।

ওই নির্দেশনায় ঋণখেলাপির বিষয়ে বলা হয়েছে- মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকলে প্রার্থী অযোগ্য হবেন। তবে নিজস্ব বসবাসের জন্য নেয়া গৃহ-নির্মাণ অথবা ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ এর আওতাভুক্ত হবে না। এমন কি কোনো কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণের কোনো কিস্তি খেলাপি হয়ে থাকলে সেটিও এর আওতায় পড়বে না।

দল নিবন্ধন সহজ করার দাবি: এদিকে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান সহজ করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিল দাবি পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন।
আজ ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে সংগঠনের আহবায়ক প্রকৌশলী ম ইনামুল হক ও সদস্য সচিব সৈয়দ হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি পাঠানো হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

এতে বলা হয়েছে, নতুন দল নিবন্ধন না দিয়ে পৌর নির্বাচনে বর্তমানে নিবন্ধিত দলগুলোকে প্রতীক দেয়ার সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়নি। তারা তারপ্রতিবাদ জানিয়েছে। চলতি নিয়ম অনুযায়ী নতুন কোনো দলকে নিবন্ধন পেতে ২৩টি জেলায় ও ১০০টি উপজেলায় দপ্তর থাকার প্রামাণ্য দাখিল করার কথা আছে- যাকে তারা একটি কালা কানুন বলে অভিহিত করেছে। এছাড়া ১০০ ভোটারের পূর্বস্বাক্ষর গ্রহণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা ভোট প্রদানের গোপনীয়তা ভঙ্গ করার সামিল বলে জানিয়ে তার প্রতিবাদ জানান তারা।

অর্থসূচক/মাইদুল

এই বিভাগের আরো সংবাদ