'চাপ মোকাবেলায় সক্ষম বাংলাদেশ ব্যাংক'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

‘চাপ মোকাবেলায় সক্ষম বাংলাদেশ ব্যাংক’

দেশের ব্যাংকিং খাতের যেকোনো চাপ মোকাবেলার শক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের আছে। এ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

Atiur Rahman

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতিউর রহমান বলেন, ব্যাংক খাত নিয়ে বেশ কিছু ভাবনা আছে আমাদের। ব্যাংক খাত নিয়ে কোনো ধরণের দুশ্চিন্তা নেই। যেকোনো চাপ মোকাবেলা করার সামর্থ্য আমরা অর্জন করেছি। ব্যাংকিং খাতকে জনবান্ধব করতে ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। ফলশ্রুতিতে গত ৬ বছর ধরে আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ রয়েছে। কৃষি, শিল্প, ই-কমার্স, এসএমইসহ সব জায়গায় বিনিয়োগ হওয়ায় এ সাফল্য চোখে পড়ছে না। বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ইনস্টিটিউটে ফাইভ স্টারের সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এ প্রতিষ্ঠান তৈরি হতে সময় লাগবে ২-৩ বছর। এতে একটি মাল্টিপারপাস হল, একটি থিয়েটার টাইপ কনফারেন্স হল, ২টি বড় ও ৬টি ছোট কনফারেন্স রুম ছাড়াও ২০টি শ্রেণিকক্ষ, ২টি লেকচার থিয়েটার, কর্মীদের জন্য কিউবিক্যাল ওয়ার্ক স্টেশন, ৬৭টি ডাবল বেড ও ৩২টি সিঙ্গেল বেডের হোস্টেল রুম, ২৬টি স্যুট, ৮টি ফ্যামিলি কটেজ, ২টি এক্সিকিউটিভ অ্যাপার্টমেন্ট ও স্টাফদের জন্য একটি ডরমেটরি থাকবে। পরিপূর্ণ পরিবেশবান্ধব করতে বৃষ্টির পানির সদ্ব্যবহার, ব্যবহৃত পানি প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার, সোলার প্যানেল ও এলইডি বাল্ব ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি ভবনকেই সবুজ ভবনে রূপান্তর করা হবে। প্রতিষ্ঠানের মোট ভূমির প্রায় অর্ধেকেই থাকবে সবুজ বনায়ন।

গভর্নর আরও জানান, এই ইনস্টিটিউট হবে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিষ্ঠান। প্রারম্ভিক বছরগুলোতে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ভার বিদেশি কোনো বিশ্বমানের ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের হাতে দেওযার ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে এটি দেশের বাইরের প্রশিক্ষণার্থীদেরও আকৃষ্ট করবে। শুরুতে এমন সহযোগিতা স্থাপন করা গেলে ভবিষ্যতে এর গুণগতমান রক্ষা করা সহজতর হবে। এর নির্মাণকাজ শেষ হলে দেশের আর্থিক ও মূলধন বাজার খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, পরিচালক, শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহী, বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ পাবেন। সরকারি-বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠান এখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন করতে পারবে।

ব্যাংকের তারল্য সংকটের বিষয়ে ড. আতিউর রহমান বলেন, এখন ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নেই। বরং বেশি তারল্য হয়ে যাওয়ায় আমাদের সমালোচনা হয়। সুদের হার কমেছে। স্পেড ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশে নেমেছে। আমাদের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ১০ দশমিক ৫৩ শতাংশ। পুঁজি পর্যাপ্ততার হার প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৬ সালের মধ্যে সব পাবলিক ব্যাংকের শাখা ডিজিটালাইজড করতে হবে। ব্যাংকগুলো এখন গ্রাহককল্যাণ ও উদ্যোক্তাদের সাফল্যের জন্য কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জোদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজি হাসান, নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান, নগর পুলিশের কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমুখ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ