জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী মাংস!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী মাংস!

greenhouse_gas_emission

বিজ্ঞানীরা বলছেন কার্বন নির্গমন কমানোর পাশাপাশি মাংস খাওয়াও কমাতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্যারিস সম্মেলনকে ঘিরে যে আলোচনা চলছে সেটি অতীতের যে কোনো আলোচনাকে হার মানিয়েছে।

পৃথিবীর উষ্ণতা যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য কার্বন নিঃসরনের মাত্রা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর নানা দিক নিয়ে অনেকেই কথা বলছেন।

কিন্তু এতো আলোচনার ফাঁকে একটি বিষয় হয়তো অনেকের দৃষ্টি এড়িয়ে যাচ্ছে। সেটি হচ্ছে মাংস খাওয়া।

পৃথিবীতে যে পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস উৎপন্ন হয়,তার ১৫ শতাংশ আসে পশুপালন খাত থেকে। প্রতিবছর প্রাইভেট কার, ট্রেন, জাহাজ এবং বিমান থেকে যে পরিমান দূষণ তৈরী হয়, এই পশুপালন খাত থেকেও একই পরিমাণ গ্রিনহাউজ গ্যাস উৎপন্ন হয়।

লন্ডনভিত্তিক গবেষনা প্রতিষ্ঠান চ্যাটাম হাউজ বলছে, মাংস খাওয়ার পরিমাণ না কমালে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঠেকানো সম্ভব হবে না।

বিশ্ব মাংস খাওয়ার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি আমেরিকায়। সেখানে প্রতিদিন একজন ব্যক্তি গড়ে ২৫০গ্রাম মাংস খায়। একজন মানুষের স্বাস্থ্যবান হওয়ার জন্য যে পরিমাণ মাংস খাওয়া প্রয়োজন এটি তার চারগুণ।

meat_cancer_promo

পৃথিবীর অনেক দেশে নানাভাবে মাংস খাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।

পৃথিবীর অনেক দেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে সেই সঙ্গে বাড়ছে মাংস খাওয়ার পরিমাণ। বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সাল নাগাদ এই মাংস খাওয়ার পরিমাণ এখনকার চেয়ে ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

কিন্তু এখনও দেশগুলোর কাছ থেকে মাংস খাওয়া কমানোর বিষয়ে তেমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ এ ব্যাপারে প্রতিশ্রতি দিয়ে সরকারগুলো তাদের দেশের জনগনের কাছে বিরাগভাজন হতে চায়না।

মাংস খাওয়ার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যে সম্পর্ক আছে সে বিষয়টি অনেক মানুষই জানে না। তাহলে এখন কী করা যেতে পারে।

eating_bacon_sandwich

অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাংস খাচ্ছেন

বিশ্লেষকদের মতে, সবার আগে এ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। শুরুতেই জনগনের উপর বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

প্রথম দফায় বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের খাবারের তালিকায় মাংস বাদ দিয়ে শাক-সবজির প্রচলন করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতা তৈরি হবে। পরবর্তী ধাপে মাংসের দামের ক্ষেত্রে সমন্বয় আনতে হবে। মাংস খাবার বিপক্ষে যখন শক্ত যুক্তি তৈরি হবে তখন সাধারন মানুষ সেটিকে গ্রহণ করবে।

মানুষের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরী এবং দাম বাড়ানোর বিষয়টি যে ভালো ফল দেয়, সেটির প্রমান এর আগেও হয়েছে। বিশেষ করে ধুমপান এবং মদ্যপান এর দুটি উদাহরন। একদিকে সচেতনতা তৈরি এবং অন্যদিকে দাম বাড়ানোর কারণে অনেকে সেটি হয়তো কমিয়েছেন অথবা ছেড়ে দিয়েছেন। মাংস খাবার অভ্যাস কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকরি হবে বলে অনেকেই মনে করেন।

সূত্র: বিবিসি

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ