মন্দায় যৌনপেশায় গ্রিসের তরুণীরা
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

মন্দায় যৌনপেশায় গ্রিসের তরুণীরা

দিন দিন ভেঙে পড়ছে গ্রিসের অর্থনীতি। সিপ্রাস সরকারের পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণেও পরিবর্তন ঘটাতে পারছে না সেই চিত্রের। ক্রমেই বেড়ে চলছে বেকারত্বের হার। বলতে গেলে দেশটার আর্থ-সামাজিক অবস্থা একেবারে করুণ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। আর এই অবস্থার জলজ্যান্ত প্রমাণ মেলে সেদেশের তরুণীদের অবস্থা থেকে।

একটি স্যান্ডউইচের দামে বিক্রি হচ্ছে গ্রিসের তরুণীর শরীর। ছবি সংগৃহীত

একটি স্যান্ডউইচের দামে বিক্রি হচ্ছে গ্রিসের তরুণীর শরীর। ছবি সংগৃহীত

কোনো ধরনের চাকরি নেই। ক্ষুধায় একটা স্যান্ডউইচও কেনার ক্ষমতা নেই। তাই বাধ্য হয়েই দেহ বিক্রি করছেন গ্রীসের তরুণীরা।

সম্প্রতি এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসছে।

জরিপটি পরিচালনা করেছেন ল্যাক্সোস নামের একটি সংস্থা। প্রায় তিন বছর ধরে জরিপটি করা হয়।

জরিপে বলা হয়, এই মুহূর্তে ১৭ হাজার গ্রিক তরুণী বাধ্য হয়ে দেহ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। এমনকি, এই মুহূর্তে গোটা ইউরোপে গ্রিসের তরুণীরাই সবচেয়ে ‘সস্তা’।

গ্রিসের করুণ অর্থনীতি সম্পর্কে  জরিপে বলা হয়, বর্তমানে সেদেশে বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অধিকাংশেরই সংসার চলছে বাপ-দাদার পেনশনের টাকায়। স্কুলের ছোট বাচ্চারা পেটের ক্ষুধা নিবারণে বাসে বাসে ভিক্ষা করছে।

জরিপে উঠে এসেছে, প্রথমবার ক্ষমতায় গিয়ে সিপ্রাস প্রতিশ্রুতি দেন সরকারী ক্ষেত্রে কোনো কর বাড়বে না। কিন্তু সমস্যা জর্জরিত সিরিজা সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত মেনে বাড়ানো হয়েছে কর। গণভোটে সাধারণ মানুষ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে মত দিলেও পিছু হটেননি সিপ্রাস। এদিকে কর বাড়লেও বাড়ছে না বেতন। নেই নতুন কর্মসংস্থানও।

জরিপে বলা হয়, গ্রিসে গ্রামের অর্থনীতি শহরের তুলনায় বেশ ভালো। অর্থনীতির দশা করুন হলেও এথেন্সের মতো শহরগুলোতে পাল্টায়নি ব্যয়বহুল জীবনধারণের মান। তাই চাহিদা একেবারে পূরণ না হওয়াতেই যৌন পেশায় বাধ্য হয়েই জড়িয়ে পড়ছেন কম বয়সী গ্রিক মেয়েরা। প্রয়োজন শুধু ক্ষুধাটুকু মেটানো। তাই মাত্র দুই ইউরোর বিনিময়ে ৩০ মিনিটের জন্য দেহ বিক্রিতে রাজি হয়ে যাচ্ছেন সেদেশের তরুণীরা।

জরিপে আরও বলা হয়, অনলাইনে পর্ন ভিডিওর রমরমার যুগে গোটা বিশ্বেই দেহ ব্যবসায়ীদের  আয় কমছে। গ্রিসে যৌনপেশা আইনত বৈধ। তবে ইউরোপে অনেক দেশ এখনো তা অবৈধ। ফলে অনেক আগে থেকেই বিশেষত; পূর্ব ইউরোপের বহু তরুণী ও যুবতী দেহব্যবসার জন্য গ্রিসে পাড়ি দেন। তবে গত তিন বছরে আর্থিক পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে গ্রিসের সাধারণ নাগরিকরা অনেক বেশি এই পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। বেঁচে থাকার সাধারণ চাহিদাগুলো মেটাতে কম বয়সী নারীরা নামছেন দেহ ব্যবসায়।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার

এই বিভাগের আরো সংবাদ