‘চাকরি প্রার্থীর থেকে ফি নিলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

‘চাকরি প্রার্থীর থেকে ফি নিলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, কোনো ব্যাংক চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নিতে পারবে না। কেউ নিলে সেই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বক্তব্য দিচ্ছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বক্তব্য দিচ্ছেন গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ছবিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া।

শুক্রবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ব্যাংকিং মেলায় ব্যাংকার-গ্রাহক প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি খোলাসা করে বলতে চাই, বাংলাদেশ ব্যংক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কোনো ব্যাংক চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি নিতে পারবে না। যদি কোনো ব্যাংক নিয়ে থাকে, সেই ব্যাংকের নামসহ ব্যাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করুন; আমরাই তদন্ত করে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেবো।

রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এখন আর সেই সুযোগ নেই উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, কারণ এখন তারা নিজে থেকে পরীক্ষা নিয়ে আর কোনো নিয়োগ দিতে পারবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে ব্যাংকারস সিলেকশন কমিটি(বিএসসি) নামে একটি কমিটি আছে তারা এটি করবে। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে এটি নিশ্চিৎ করবো যাতে কোনোরকম অনুরোধ বা লবিং এর মাধ্যমে কেউ ঢুকতে না পারে। উপযুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কেবল মেধাবীরাই সুযোগ পায়। তদবিরের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতেই আমরা এই ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, আমরা জানি অনেক সময় রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীরা চাপের মুখে অসহায় হয়ে পড়েন। তাদেরকে চাপ মুক্ত করতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছি।

ব্যাংকিং ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, এবছর ৩ হাজারেরও বেশি অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকে এসেছে। যার প্রায় ৯৯ শতাংশের সমাধান আমরা করেছি। তিনি বলেন, ব্যাংকিং ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জালিয়াতি হলে তার চাকরিতো খাবই।এমনকি তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া আমরা ভার্চুয়াল এবং ওয়ান টু ওয়ান সব ধরনের মাধ্যম খুলে রেখেছি। যাতে যে কোনো অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ সমাধান করার যায়।

তিনি বলেন, আমাদের একটি হট লাইন(১৬২৩৬) আছে যার মাধ্যমে আপনারা সব ধরনের অভিযোগের কথা জানাতে পারেন। তাছাড়া আমাদের টেলিফোন, ইমেইল, ফেসবুক বা টুইটারে যেকোনো মাধ্যম থেকে অভিযোগ করলেই আমরা ব্যবস্থা নেবো।

তবে এটিও মনে রাখতে হবে, আমরা একটি কমন সমাজ-সংস্কৃতির মধ্যেই সবাই বাস করি। সেখান থেকে ব্যাংকগুলো শুধু সাধু হয়ে যাবে আর বাকিরা অপরিবর্তিত থেকে যাবে সেটি আশা করা যায় না।

একটি ব্যাংক কতটা ভালো; কতটা জবাবদিহিপূর্ণ; কতটা মানবিক তা নির্ধারণ করবেন গ্রাহকরা- এমন মন্তব্য করে উপস্থিত ব্যাংকারদের উদ্দেশে গভর্নর বলেন, আপনারা গ্রাহকদের কথাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করুন এবং সেগুলোতে যথাসম্ভব সাড়া দিন। আমরা চাই, ব্যাংকগুলো গ্রাহকবান্ধব ও উদ্যোক্তাবান্ধব হবে।

একটি ব্যাংকের কাছে গ্রাহকদের প্রাপ্য কী- সেটি গ্রাহকদের জানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব ব্যাংকগুলোর- মন্তব্য করে আতিউর রহমান বলেন, কোন খাতে কত কমিশন দিতে হবে; কোন প্রোডাক্টে কত চার্জ দিতে হবে- এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যংকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ব্যাংকগুলোর প্রধানদের কাছে আমি অনুরোধ করছি, আপনাদের প্রতিটি ব্র্যাঞ্চে যেন এ ধরনের একটি তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়; যাতে এ ব্যাপারে গ্রাহকরা পরিষ্কার ধারণা পায়।

একটি ব্যাংক থেকে লেনদেনের স্টেটমেন্ট নিতে প্রতি ১ পাতার জন্য ২২ টাকা দিতে হয়েছে- উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তরে এক গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গভর্নর বলেন, এটি একটি অমানবিক কাজ। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আপনারা বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করুন। আমি কথা দিচ্ছি, তদন্ত করে সেই ব্যাংকের বিরুদ্ধে এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবো।

এসময় ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পশ্চিমে একটি কথা আছে, ব্যাংকাররা সাধারণত বৃষ্টি এলে ছাতা বন্ধ করে দেন; ছাতা খোলেন না। আমার বিশ্বাস আপনারা সাধ্য মতো ছাতা মেলে ধরার চেষ্টা করবেন। ছাতা বন্ধ করবেন না।

অর্থসূচক/শাফায়াত

এই বিভাগের আরো সংবাদ