মেলার চতুর্থ দিনে এসএমই উদ্যোক্তাদের ভিড়
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » ব্যাংক-বিমা

মেলার চতুর্থ দিনে এসএমই উদ্যোক্তাদের ভিড়

রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ব্যাংকিং মেলায় আগতদের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই ঋণের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। নতুন উদ্যোক্তারা বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদের হার এবং অন্যান্য বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন। পিছিয়ে নেই নারী উদ্যোক্তারাও; সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণের খোঁজ করছেন তারা।

ব্যাংকিং মেলার ৪র্থ দিনে আজ শুক্রবার বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

‘একটি ব্যাংকিং জাতি গড়ার প্রত্যয়ে’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবং এক আয়োজনে সকল ব্যাংকিং সেবা দিতে প্রথমবারের মতো ব্যাংকিং মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত মঙ্গলবার এই মেলার উদ্বোধন করেন গভর্নর আতিউর রহমান। মেলা চলছে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত।

Banking Fair6

ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। ছবি: মহুবার রহমান

মেলার স্টলে থাকা ব্যাংক কর্মকর্তারাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেলায় আগাতদের মধ্যে এসএমই ঋণের ব্যপারে আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। তবে নতুন উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ব্যাবসায়ী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ গ্রাহকরাও মেলায় আসছেন ব্যক্তিগত ও গৃহঋণের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে।

বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক যমুনা ব্যংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা (এসএমই ডিভিশন) মো. সদরিল আমিন বলেন, গত তিন দিনে মেলায় আসা দর্শনার্থীদের বেশিরভাগের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলো এসএমই ঋণের সুদের হার নিয়ে। বিশেষ করে, কোন ধরনের ঋণে সুদ হার কম বা কোনটিতে জামানত ছাড়া ঋণ পাওয়া যাবে- এসব তথ্য জানতে চাইছেন বেশিরভাগ দর্শনার্থী। এই তালিকায় এরপরই রয়েছে ব্যক্তিগত ও গৃহ ঋণ।

তিনি বলেন, যমুনা ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসএমইর আওতায় আমরা প্রায় ১০ ধরনের ঋণ দিচ্ছি। ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা। জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ এবং জামানতসহ ১৬শতাংশ হার সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তবে নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সুদের হার ১০ শতাংশ।

বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২-১টি ছাড়া বেশিরভাগ ব্যাংকেরই এসএমই ঋণের সুদ হার ১০ শতাংশের উপরে। অর্থাৎ ১০ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে। কিছু কিছু ব্যাংকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট অর্থাৎ ৯ শতাংশে রয়েছে। তবে এগুলোর বেশিরভাগই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ইরফান হুসাইন বলেন, এসএমই ঋণের আওতায় আমাদের যেসব প্রোডাক্ট রয়েছে সেগুলোর সর্বনিম্ন সুদ হার ৯ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ পর্যন্ত। তবে গৃহ ও ব্যক্তিগত ঋণের ক্ষেত্রে সুদ হার সাড়ে ১৩ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ।

তিনি বলেন, এমটিবির একটি বিশেষত্ব হলো, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো মর্ডগেজ নেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ কোনো প্রকার জামানত ছাড়াই গ্রাহকরা ঋণ পাবেন।

এসএমই ঋণের সুহ হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে কথা হলো ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট এর ব্রাঞ্চ কন্ট্রোলার চিত্রা চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি অর্থসূচককে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। তবে এটা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এ বিষয়ে আমাদের বোর্ড মিটিংয়ে আলোচনা হবে। এরপর কীভাবে কী করা যাবে- তার সিদ্ধান্ত হবে। আগামী জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারি নাদাগ একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

চিত্রা চৌধুরী আরও বলেন, এসএমই ঋণের আওতায় বেশ কয়েকটি ঋণ দিচ্ছে ইউসিবি। এরমধ্যে এসএমই- দূর্জয়, অংকুর ও ধ্রুব এই ৩টিতে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোতে সুদের হারও অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় কম।

Banking Fair7

ব্যাংকিং মেলার স্টল ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: মহুবার রহমান

ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) এক্সিকিউটিভ অফিসার কে.এম. শহিদুল্লাহ বলেন, আমাদের ব্যংক আকর্শনীয় ৩ ধরনের এসএমই ঋণ দিচ্ছে কোনো রূপ জামানত ছাড়াই। এক্ষেত্রে সুদের হার সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশ।

কর্মকর্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেলা উপলক্ষে কোনো ব্যাংকই নতুন কোনো প্রোডাক্ট আনেনি। নিয়মিত প্রডাক্টগুলোর নিয়েই মেলায় এসেছে তারা। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া পর আমরা খুব অল্প সময় পেয়েছি। এসময়রে মধ্যে নতুন প্রোডাক্ট আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। নতুন প্রোডাক্টের জন্য দীর্ঘ গবেষণার দরকার। তাছাড়া নতুন প্রোডাক্টের সঙ্গে ব্র্যন্ডিংসহ নানা বিষয় জড়িত; যা এত অল্প সময়ে কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।

প্রথমবারের মত আয়োজিত এই মেলার ৪ দিন অতিবাহিত হতে চললেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দর্শনার্থী সমাগম ঘটেনি মনে করেন অনেক ব্যাংকার। তাদের দাবি, মেলার প্রস্তুতির তুলনায় দর্শনার্থী অনেক কম।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে একটি ছাতার নিচে আনতে প্রথমবার এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এর সাহায্যে সবগুলো ব্যাংক সাধারণ মানুষের কাছে তাদের সেবাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে দর্শনার্থী কম- এ বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমাদের মূল বার্তাটি ইতোমধ্যে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সচিবলায়ের মহাব্যবস্থাপক ও সহকারি মুখপাত্র এ.এফ.এম আসাদুজ্জামান জানান, মেলার ৪র্থ দিনে ব্যাংকিং সেবার বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে আজ উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের মুখোমুখি হচ্ছেন ১০ ব্যাংকের প্রধানরা। বাংলা একাডেমির মিলোনায়তনে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হবে।

তবে কোন কোন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা এতে অংশ নেবেন- তা জানানো হয়নি।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত ব্যাংকিং মেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছাড়াও দেশি-বিদেশি ৫৬টি ব্যাংক, ৬টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৭টি আর্থিক সেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মেলায় আশা দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক শিক্ষা, টাকা জাদুঘর, বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস (টাকা তৈরির মেশিন), বিভিন্ন প্রকাশনা, স্মারক মুদ্রা ও নোট ক্রয়, জনসাধারণের জন্য সেবা ও অভিযোগ কেন্দ্র খোলা রয়েছে।

অর্থসূচক/এসএমএস

এই বিভাগের আরো সংবাদ