সেই জাপানি নারীর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

সেই জাপানি নারীর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ

ময়নাতদন্তের জন্য জাপানি নারী হিরোয়ি মিয়েতার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তদন্তের স্বার্থে ওই নারীর মরদেহ উত্তোলনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নির্দেশ চেয়ে আবেদন করলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শেখ হাফিজুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক উজির আলী এসব তথ্য জানান।

court

আদালত-প্রতীকী ছবি

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি মোতাবেক একজন জেলা নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতিতে মিয়েতার মরদেহ উত্তোলনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এদিকে উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর মিয়া বলেন, আদেশের কপি ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে একজন নির্বাহী নিয়োগ করা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষে কবর থেকে মরদেহ তোলা হবে।

তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাটিকে আপাতত হত্যার ঘটনা হিসেবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কবর থেকে মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পারব।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর উত্তরায় হিরোয়ি মিয়েতা নামে এক জাপানি নারীর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে পুলিশ। ষাটোর্ধ্ব ওই নারী প্রায় ১০ বছর ধরে ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশে বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বায়িং হাউজের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন তিনি।

মিয়েতা তিন সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন উল্লেখ করে গত ১৯ নভেম্বর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি জিডি করেন জাপান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা। এরপর পুলিশ জানতে পারে, ২৯ অক্টোবর মিয়েতার মৃত্যুর পর তাকে গোপনে বনানীর ১২ নম্বরে সিটি কর্পোরেশনের কবরস্থানে সমাহিতও করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩/বি নম্বর সড়কের ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ে ‘সিটি হোমস’ নামের একটি হোটেলে একাই থাকতেন মিয়েতা। জাপানে তিনি মায়ের সঙ্গে মাঝে মাঝে টেলিফোনে কথাও বলতেন। গত ২৬ অক্টোবর মায়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকায় থাকা হিয়েরির সঙ্গে অনেকের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। তিনি জাপান সরকারের পেনশন পেতেন বলেও জানা গেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০০৬ সালে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সিটি হোমসেই থাকছিলেন তিনি। হোটেলে অনেক টাকা বিল জমে যাওয়ায় আড়াই মাস আগে বন্ধুরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় মিয়েতার থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেখানেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৯ অক্টোবর মিয়েতার মৃত্যু হয়।

ওই নারীর বাংলাদেশি বন্ধুদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অবৈধভাবে বাংলাদেশে থাকছিলেন বলে তাকে কোনো হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তবে মৃত্যুর বিষয়টি জাপানে তার মাকে জানানো হয়েছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ