মাতৃগর্ভেই জন্ম নেয় শিশু যৌন নির্যাতন প্রবণতা!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » App Home Page

মাতৃগর্ভেই জন্ম নেয় শিশু যৌন নির্যাতন প্রবণতা!

যেকোনো শিশুর প্রতি সাধারণ মানুষের স্নেহশীল প্রবণতা থাকে। কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। শিশুদের দেখলে যৌন চিন্তায় মশগুল হয়ে পড়ে ওই ব্যতিক্রম প্রবণতার মানুষগুলো। শিশুদের প্রতি যৌন চিন্তাশীল মানুষ এবং সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষক ড. জেমস ক্যান্টর।

গত কয়েক বছরে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে একটি দীর্ঘ গবেষণার পর এই দাবি করেন তিনি।

২০১২ সালের অক্টোবে ব্রিটেনে যৌন নির্যাতনের শিকার হন কিশোরী এপ্রিল জোনস। অপহরণ করে যৌন নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এর দায়ে মার্ক ব্রিজার নামে এক ব্যক্তিকে সাজা দেয় আদালত। ওই মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে বলা হয়, এপ্রিল জোনসকে অপহরণের আগে অনলাইনে শিশু পর্নোগ্রাফিক সাইটে শিশুদের অশ্লীল ছবি দেখছিল মার্ক ব্রিজার।

ওই ঘটনার পর এপ্রিল জোনসের বাবা বলেছিলেন, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনকারী বা পিডোফাইল ব্যক্তিদের বিচারে কাঠগড়ায় তুলতে, তাদের সাজা দিতে এবং নির্বীজ করতে চায়। কিন্তু তাদের এই অপরাধ প্রবণতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানা গেলে হয়ত যৌন নির্যাতনের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব হবে।

torture

যৌন নির্যাতনের প্রতীকী ছবি

এই মন্তব্যের পর শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের এমন নেতিবাচক প্রবণতার উৎস সম্পর্কে জানতে গবেষণা শুরু করেন কানাডার টরেন্টোর মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষক ড. জেমস ক্যান্টর। তার দীর্ঘদিনের গবেষণার পর বেশকিছু চমকপ্রদ এবং বিতর্কিত তথ্য জানা গেছে।

গবেষণার পর ড. জেমস ক্যান্টর বলেন, শিশুদের ওপর যৌন হামলাকারীদের মস্তিষ্কের গঠন এবং সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কের গঠনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ মানুষ শিশুদের দেখলে আদর করে, তাদের সঙ্গে ভাব জমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পিডোফাইলদের মধ্যে এই ধরনের প্রবণতা থাকে না। শিশুদের দেখলেই তাদের মধ্যে যৌন প্রবণতা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, পিডোফিলিয়া এক ধরনের যৌন প্রবণতা। এই প্রবণতা নিয়েই কিছু মানুষের জন্ম হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন না ঘটলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন প্রবণতা বাড়তে থাকে।

ক্যান্টরের তত্ত্ব অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে থাকাকালে যখন একটি শিশুর মস্তিষ্ক গঠিত হয়, তখনই এই ধরনের প্রবণতা জন্ম নেয়। গর্ভাবস্থায় মায়ের ওপর যখন মানসিক চাপ থাকে এবং তিনি অপুষ্টিতে ভুগেন তখন শিশুর মস্তিষ্কের যথাযথ বিকাশ হয় না। আর তখনই গর্ভের শিশুর মস্তিষ্কে পিডোফিলিয়া প্রবণতার সংযোজন হতে পারে।

পিডোফিলিয়া প্রবণতা বন্ধে প্রক্রিয়া উদ্ভাবনে আরও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ড. জেমস ক্যান্টর।

অন্যদিকে তার এই গবেষণাকে বির্তকিত বলে দাবি করেছেন কানাডার অটোয়ার এক গবেষক ড. পল ফেডোরফ। তিনি মনে করেন, শিশু যৌন নির্যাতন প্রবণতা কোনো জন্মগত সমস্যা না। সঠিক প্রক্রিয়ায় আগালে এর চিকিৎসা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি।

ড. পল ফেডোরফ বলেন, অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন ওষুধ দিয়ে শিশু যৌন নির্যাতনকারীদের এই ধরনের নেতিবাচক যৌন প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব। ওষুধ ব্যবহার করে শিশু যৌন নির্যাতনের প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব হলে অপরাধীদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যাবে।

অর্থসূচক/এমই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ