'দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হবে পাট-পাটজাত পণ্য’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

‘দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হবে পাট-পাটজাত পণ্য’

পাট আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের জুট কমিশন তাদের আমদানিকারকদের বিধি-নিষেধ জারি করলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি ভারতের জুট কমিশন এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও দেশটিতে পাট রপ্তানির বিষয়ে নতুন করে ভাবছে বাংলাদেশ।

ভারতীয় জুট কমিশন তাদের আমদানিকারকদের নতুনভাবে নিবন্ধিত হওয়ার শর্তে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাট রাপ্তানির ক্ষেত্রে কনসাইনমেন্ট এর জন্য এনওসি এর বিধান প্রত্যাহার করার পরে আজ সোমবার সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক সভা হয়।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

সভা সূত্রে জানা যায়, পাট আমদানির বিষয়ে ভারতের জুট কমিশন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও ভারতে পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবতে হবে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের। কেননা, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’ বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ফলে আগের তুলনায় পাটের চাহিদা অনেকগুণ বেড়ে যাবে। দেশিয় চাহিদা পূরণ করে অবশিষ্ট থাকলেই কেবল পাট রপ্তানি করা যাবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আব্দুল বারিক খান অর্থসূচককে বলেন, পাটের বস্তার ব্যবহার বাড়াতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাট মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আমাদের দেশেই অনেক পাটের প্রয়োজন হবে। নতুন করে অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভায় আমাদের পাটের উৎপাদন, ব্যবহার, রপ্তানি এবং মজুদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব দেখার পরে যদি মনে হয় পাট রপ্তানি করা যাবে, তাহলেই আমরা পাট রপ্তানি করতে পারব।

জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে পাটের মজুত বেড়ে যাওয়ার কারণে বাজারে পাটের সংকট দেখা দেয়। তাই দেশের পাটকলগুলো যেন পর্যাপ্ত পাট পায়, সে জন্য চলতি মাসের ৩ তারিখ থেকে সাময়িকভাবে কাঁচা পাট রপ্তানি নিষিদ্ধ করার আদেশ দেয় পাট মন্ত্রণালয়।

এ নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে পাট শিল্পের সঙ্গে জড়িত এই কর্মকর্তা বলেন, সব পাট এখন মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের হাতে মজুদ রয়েছে। তাই সরকারের উচিত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাওয়া। তা না হলে এসব ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে পাট না দিয়ে সরাসরি রপ্তানি করে দিবে। ফলে পাট সংকটে পড়বে আমাদের পাটকলগুলো।

‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০’-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল এক সভার আয়োজন করে পাট মন্ত্রণালয়। সভায় জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার ও চিনি—এই ছয় পণ্যের মোড়কে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে সারা দেশে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করবে পাট মন্ত্রণালয়।

আইনে বলা আছে, কোন ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করিয়া কৃত্রিম মোড়ক দ্বারা কোন পণ্য বা পণ্য সামগ্রী মোড়কজাতকরণ, বিক্রয়, বিতরণ বা সরবরাহ করিলে বা করিবার অনুমতি প্রদান করিলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

অর্থসূচক/মেহেদী হাসান

এই বিভাগের আরো সংবাদ