সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মরদেহ রাউজানে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মরদেহ রাউজানে

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি কার্যকর হওয়া সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মরদেহ চট্টগ্রামে রাউজানের গহিরায় পৌঁছেছে। মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে তার পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছায়।

Salauddin Quader Chowdhury

পুলিশের প্রিজন ভ্যানের সামনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। ফাইল ছবি

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বাড়ির সামনের উঠানে জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন করা হবে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দাফন-কাফনের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ২০ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আছে দুই প্লাটুন বিজিবি।

প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর আজ রোববার প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একাত্তরের বদর নেতা মুজাহিদ ও মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের ত্রাস সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়। রাত ৩টার দিকে তাদের মৃতদেহ নিয়ে ফরিদপুর আর চট্টগ্রামের পথে রওনা হয় অ্যাম্বুলেন্স।

১৯৭৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধে আগে মুসলিম লীগ থেকে রাজনীতি শুরু করেন তিনি। পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। স্বৈরশাসক এরশাদের সামরিক শাসনামলে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবন, তারপরও বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে ভরা কথার জন্য।

মুক্তিযুদ্ধকালে সাকা চৌধুরী কাজ করেছিলেন পাকিস্তানি দখলদার সেনাদের সহযোগী হিসেবে। তার বাবা ফজলুল কাদের চৌধুরী ছিলেন কনভেনশন মুসলিম লীগের সভাপতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় ফজলুল কাদেরের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার অন্যতম অংশীদার ছিলেন তার ছেলে সাকা চৌধুরী।

বাবার নির্দেশ পালন করার জন্য একাত্তরের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নূতনচন্দ্র সিংহকে তিনি পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তায় হত্যা করেন। ৪টি অপরাধে সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

মুক্তিযুদ্ধকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ৩৩ মাসের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২৯ জুলাই ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সেই ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এরপর ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন সাকা চৌধুরী। তবে ১৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পুনর্বিবেচনার ওই আবেদন খারিজ করে দেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ