'রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটবে না'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

‘রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটবে না’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটবে না বলে জানিয়েছেন মামলার সাক্ষী ফরিদপুরের রণজিৎ নাথ বাবু।

Mujahid2

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ।

আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এ কথা বলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস.কে.) সিনহার নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই রায় ঘোষণা করেন।

রণজিৎ নাথ বাবু বলেন, মুজাহিদের জন্য সব সময় খুব ভয়ে থাকতাম। এখন আমি শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। দ্রুত রায়ের বাস্তবায়ন চাই। তার (মুজাহিদের) ফাঁসি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আমি ও আমার পরিবারের আতঙ্ক কাটবে না।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার আসামি ফরিদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ক্যাপ্টেন (অব.) নূর মোহাম্মদ বাবুল বলেন, দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের আশার প্রতিফলন ঘটেছে। এমনটি আমরা চেয়েছিলাম। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করে সরকার যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে আমরা মনে করি, মুজাহিদের ব্যাপারে একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সিরাজ-ই-কবির খোকন বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদের ফাঁসির রায় দিয়েছিল। আপিল বিভাগে সেই রায় বহাল থাকায় আইনের শাসনের জয় হয়েছে। সেইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবুল ফয়েজ শাহনেওয়াজ বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট; এখন এর বাস্তবায়ন চাই। মানবতাবিরোধী নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা জামায়াত নেতা মুজাহিদের ফাঁসির রায় শোনার পর আমার মতো দেশের স্বাধীনতাকামী সব মানুষই আজ আনন্দিত।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লোকমান হোসেন মৃধা বলেন, ফরিদপুরের পদ্মারচর ভাঙ্গিডাঙ্গি ও বকচরে মুজাহিদের নেতৃত্বে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় যে গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল তার স্মৃতি এখনও ভুলেনি এলাকাবাসী। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম মুজাহিদের ফাঁসির রায় হোক। আপিল বিভাগের রায় শুনের মনে হল, কলঙ্কের বোঝা নেমে গেল।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, মুজাহিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা হওয়ায় ফরিদপুরবাসীর সঙ্গে আমিও আনন্দিত। কুলাঙ্গার যুদ্ধাপরাধীদের জন্মস্থানের অপবাদ থেকে কলঙ্কমুক্ত হতে পেরেছি আমরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ