‘অবকাঠামোসহ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ করবে দাতারা’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

‘অবকাঠামোসহ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ করবে দাতারা’

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশের জ্বালানি, বিদ্যুৎ, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও অবকাঠামোসহ অগ্রাধিকার খাতে অংশীদারিত্ব বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী দাতা গোষ্ঠীরা।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।

Abul Mal Abdul Muhit

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত-ফাইল ছবি

দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (বিডিএফ) বৈঠক শেষে বৈঠকের সার্বিক ফলাফল জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিডিএফ বৈঠকে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবাযু পরিবর্তন, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও অবকাঠামোসহ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগ দাতাদের অংশগ্রহণের উপর দেওয়া হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করেছে।

তিনি বলেন, ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকারের রূপকল্প দাতা গোষ্ঠীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তারা আমাদের পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের উন্নয়ন সহয়োগিরা জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ট্রান্সপোর্ট ও অবকাঠামো খাতে গুরুত্ব দিতে বলেছে। অবকাঠামোর উন্নয়ন না হলে দেশের নতুন নতুন উৎপাদিত শিল্পের উন্নয়ন হবে না।

এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি ), এশিয়ান ডেভেলভমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্বব্যাংক দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে বলে জানান মুহিত।

উন্নয়নে দাতাদের পরামর্শ কী- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারা বলেছে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা উচ্চাভিলাসী; জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্ব দিতে হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে নজর দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৮ শতাংশ করতে পারবো। এজন্য ক্ষমতায় ও দায়িত্বের দিকে নজর দিতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়ন ঢাকা থেকে সম্ভব নয়। আমাদের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।

দুই দিনব্যাপী বিডিএফ বৈঠকে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নকে ঘিরে ১টি কি-নোট সেশন এবং ৬টি ওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে মূল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পদের সমবণ্টনকে আন্তর্ভূক্তিমূলক উচ্চঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত হিসেবে কি-নোট সেশনে চিহ্নিত করা হয়।

এসময় বক্তারা মতামত দেন, ভূমি মালিকানার সংস্কার, করনীতি সংস্কার, সরকারি সেবা ব্যবস্থাপনার সংস্কার, মানসম্মত শিক্ষা এবং সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনির সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্ভূক্তিমূলক এবং টেকসই আর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা যেতে পারে। তাদের পর্যবেক্ষণে তুলে ধরা হয় যে, যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিতকরণের জন্য খাদ্য অভ্যাসে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।
আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র নিরসনের নিয়ামক হিসেবে সুদৃঢ় আঞ্চলিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ২য় ওয়ার্কিং সেশনে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

৩য় ওয়ার্কিং সেশনে বক্তারা আইনের শাসনের উপর প্রতিষ্ঠিত সুশাসন নিশ্চিতকরণের গুরুত্বের উপর বিশেষ নজর দেন। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং সুশীল সমাজের অংশীদারিত্বকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কর্তৃক উৎসাহ প্রদানের উপরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তারা মতামত দেন।

জিডিপির শতকরা হারে জাতীয় বাজেটে শিক্ষাওস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পক্ষ্যে ৪র্থ ওয়ার্কিং সেশনে বক্তারা যুক্তি তুলে ধরেন। উচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে ১০ বছর মেয়াদী একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্যও তারা প্রস্তাব রাখেন। একই সঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার জন্য মন্ত্রণালয় এবং উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য পৃথক দুইটি মন্ত্রণালয় গঠনের উপর তারা মতামত দেন।

২০৩০ সালের মধ্যে পুষ্টিহীনতাকে শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে আরও অধিক বরাদ্দ প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।

৫ম ওয়ার্কিং সেশনে সরকার কর্তৃক সম্প্রতি অনুমোদিত জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কৌশলপত্রের উপর আলোচনা করা হয়।

এসময় বক্তারা মা ও শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের উপর গুরুত্ব দিয়ে চরম দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। এছাড়া প্রতিবন্ধিত্ব, বেকার সমস্যা এবং মাতৃত্বের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য সামাজিক বিমা পদ্ধতি প্রচলনের প্রস্তাব করেন তারা।

৬ষ্ঠ সেশনে উন্নয়নের মূলধারায় জেন্ডার অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ, বাল্য বিবাহ দূরীকরণ, সেবা কাজে নারীর অবৈতনিক নিয়োগ হ্রাসকরণ, কর্মস্থল ও উন্মুক্ত স্থানে নারীর প্রতিসহিংসতা কমানো এবং ভূমি ও উৎপাদনশীল সম্পদের উপর নারীর প্রবেশাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো মতামত দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাউদ্দিন, ইউএসএইড বাংলাদেশের মিশন প্রধান ও স্থানীয় পরামর্শক গোষ্ঠীর সহ সভাপতি জেনানা জেরুজেলস্কিও প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৫ ও ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিদের সবচেয়ে বড় বিডিএফ বৈঠকে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (আইডিবি) প্রায় ৩৬টির মতো উন্নয়ন সহযোগী দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেয়।

অর্থসূচক/মাইদুল

এই বিভাগের আরো সংবাদ