৫ ধরনের প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপের অর্থনীতিতে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আন্তর্জাতিক
প্যারিস হামলা

৫ ধরনের প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপের অর্থনীতিতে

ফ্রান্সের প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপের অর্থনীতিতে। আর তা হতে পারে সূদূরপ্রসারী অথবা অস্থায়ী। যেমন পর্যটন খাতে ধাক্কা লাগার পাশাপাশি ভোক্তা ব্যয়ের ওপর একটা অস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। তবে সব প্রভাব যে নেতিবাচক হবে এমন নয়, কিছু প্রভাব ইতিবাচকও হতে পারে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় প্যারিসের বিভিন্ন স্থানে একযোগে সন্ত্রাসী হামলায় দেড় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়। এ ঘটনা ইউরোপের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে শনিবারই এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ম্যাগাজিন ফরচুন। প্রতিবেদনের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল-

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

১. নজরদারি বাড়তে পারে

ইউরোপের ওপরও নজরদারি চলছে- এ নিয়ে তাদের যে বিতর্ক ছিল তা কিছুটা দূর হতে পারে। আর সেইসঙ্গে নজরদারি আরও বাড়তে পারে। কারণ ইউরোপভূক্ত দেশগুলো তাদের গোপন তথ্য, করফাঁকি বিষয়ের চেয়ে নিরাপত্তার ওপর বেশি জোর দিয়েছে। হামলার জন্য সাধারণত দীর্ঘ পরিকল্পনা ও যোগাযোগ দরকার হয়। আর তার জন্য ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার হয় না- এটা কমই বিশ্বাসযোগ্য। তবে এর অর্থ এই নয় যে, অধিক নজরদারি এ ধরনের হামলা বন্ধ করবে। ফলে এ হামলায় ইউরোপজুড়ে নজরদারি আরও বাড়তে পারে।

২. ইউরোপের অভিভাসন নীতি বদলাতে পারে

এখনও নিশ্চিত নয়, তবে কিছু তথ্য প্রমাণ বলছে, হামলাকারীদের অন্তত একজন শরণার্থী বেশে গ্রীস সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করে। এর ফলে ইউরোপের অভিভাসন নীতিতে সতর্কমূলক প্রভাব পড়েছে। ১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থী নিতে ইউরোপ কমিশন যে ভদ্রতা দেখিয়েছিল তাতেও কালি পড়তে পারে। আর এমনটি হলে ইউরোপের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়বে।

৩. ইউরোপের সীমান্ত দ্বার বন্ধ হতে পারে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় ধরনের অর্জনের মধ্য অভ্যন্তরীণ সীমান্তগুলো খুলে দেওয়া ছিল অন্যতম। কিন্তু অভিভাসন সংকট বলকান দেশগুলোতে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার  করতে বাধ্য করে। বর্তমানে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্য সুইডেন ও জার্মানি হয়েছে শরণার্থীদের জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। এখন যদি ইউরোপের ‘সেনজেন’ এলাকায় পাসপোর্ট ছাড়াই অবাধ চলাচলের যে সুযোগ ছিল তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে এর পাশ্ববর্তী দেশগুলোর ব্যবসা বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে।

৪. শেষ হতে পারে অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের দিন

প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের জন্য আরও দ্বিগুণ সংকট হল। যে কয়জন বিশ্বনেতার ওপর মার্কিন নজরদারি সর্বোচ্চ তার মধ্য এই নেতাই অন্যতম। তিনি ইউরোপে বিপুল পরিমাণ মুসলিম অভিবাসী ঢোকানোর ব্যাপারে পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন, আমরাই বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবো। সর্বশেষ এ হামলার প্রেক্ষিতে তার দিন শেষ হতে পারে। তবে এ নিয়ে ইউরোপের অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব পড়বে তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

৫. সিরিয়ায় শান্তি

এটা এখন আর হতাশা ও সর্বনাশার দোলাচলে নেই। সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি কমাতে ভিয়েনায় গতকাল যে আলোচনা হয়েছে- সেখানে অধিকাংশ শক্তিধর দেশই সিরিয়ায় নতুন সরকার আনার বিষয়ে একমত হয়েছে। আর এটাকে ফের ইরাকের সিনজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও আইএসের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপের পূর্বশর্ত হিসেবে ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিরিয়ার শান্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির সমাপ্তি ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়া ও ইউরোপ অর্থনীতির মধ্য এক ধরনের সমঝোতা হওয়ার সুযোগ থাকছে।

অর্থসূচক/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ