অবিশ্বাসের দৃষ্টি প্যারিসের বাংলাদেশিদের দিকে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » প্রবাস

অবিশ্বাসের দৃষ্টি প্যারিসের বাংলাদেশিদের দিকে

প্যারিসে ব্যাপক হামলার পর থেকে শহরটিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এর বাসিন্দারা। হামলার পর থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অনেকেই ঘর হতে বের হননি।

Paris Attacks16

প্যারিসের ছয়টি স্থানে হামলায় নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন সড়কে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়।

প্যারিসে বসবাসকারী জাহিদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশির বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

জাহিদুল ইসলাম জানান, প্যারিসের ছয়টি এলাকায় হামলার পর থেকে শহরটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের দিকে সবাই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে। এমন সন্দেহের কারণে অনেকেই অবিশ্বাসের দোলাচলে আছেন।

প্যারিসের একটি দোকানে কাজ করেন জাহিদুল ইসলাম। শুক্রবার রাতের হামলার একজন প্রত্যক্ষদর্শীও তিনি। বিবিসির পক্ষ থেকে এই বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার পরদিন কাজে যোগ দিয়েছি। তবে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করলেও গতকাল শনিবার মাত্রা ৪ ঘণ্টা কাজ করেই ঘরে ফিরেছি। ক্রেতা একেবারেই ছিল না বললেই চলে। সব দোকানপাটেরই একই অবস্থা। বেশিরভাগ দোকানপাটই ছিল বন্ধ।

জাহিদুল ইসলাম জানান, প্যারিসের রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা ছিল। যারা বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বের হয়েছেন- তাদের মধ্যে ফরাসী নাগরিক খুব কমই ছিল। এমনকি কিছু মানুষ ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বেলে আহত-নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেও তাদের সংখ্যাও খুব কম ছিল।

তিনি বলেন, এছাড়া সব মানুষের মধ্যে এক ধরনের সন্দেহ প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। একে অপরের দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছিল। কারও দৃষ্টিতে ক্ষোভ বা বিদ্বেষ ছিল না। কিন্তু সন্দেহ প্রবণতা কাজ করছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

শহরের প্রতিটি সড়কে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হলেও মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ এখনও ফিরে আসেনি বলেও জানান তিনি।

জাহিদুল ইসলাম জানান, বিদেশিদের এবং বিশেষ করে যারা শ্বেতাঙ্গ নন- তাদেরকে খুবই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। প্যারিসের নিয়ম অনুযায়ী, রাস্তাঘাটে কেউ কারো দিকে দেখে না। কিন্তু শনিবার রাস্তাঘাটে সবাই ঘুরে ঘুরে তাকাচ্ছে বিশেষ করে আমাদের মতো বিদেশিদের দিকে। পাশের লোকের দিকে খুব তাকাচ্ছে। মানুষ খুব সতর্কভাবে চলাফেরা করছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে শার্লি হেবদো পত্রিকায় হামলার ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেটা আমার বাসার খুব কাছের ঘটনা। তখনও মানুষকে এমন আচরণ করতে দেখা যায়নি।

জাহিদুল ইসলাম জানান, হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সবাই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই কাজে যোগ দেয়নি। অধিকাংশই ঘর থেকে বের হননি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ