৬ বছর পর হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক
বৃহস্পতিবার, ২রা জুলাই, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

৬ বছর পর হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক

প্রায় ৬ বছর পর শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) বৈঠক। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মলেন কেন্দ্রে আগামী ১৫ নভেম্বর ২ দিনব্যাপী এ বৈঠকের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিডিএফের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ৭টি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সূত্র জানায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিদের সবচেয়ে বড় এ বৈঠকে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ (আইডিবি) প্রায় ৪০টির মতো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

১৬ নভেম্বর বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মলেন কেন্দ্রের মিডিয়া বাজার বিডিএফ বৈঠক পরবর্তী এক সংবাদ সম্মলনে বৈঠকের ফলাফল সাংবাদিকদের অবহিত করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বিডিএফ বৈঠক সফল করতে ইআরডি সিনিয়র সচিবকে প্রধান করে ২৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি বিডিএফ বৈঠক আয়োজনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কাজ করছে।

ইআরডির অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, প্রায় ৬ বছর পরে বিডিএফ বৈঠক হতে যাচ্ছে। প্রায় ৪০টি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, বিডিএফ বৈঠক উন্নয়ন সহযোগিদের কাছে বাংলাদশের চাওয়া পাওয়া তুলে ধরবে সরকার। এছাড়া বৈঠকে ২০১৬-২০ সাল মেয়াদে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সরকারের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা ভিশন-২০২১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ ও কর্মকৌশল এবং দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে প্যারিসে প্রথম বিডিএফ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, প্যারিসে নয় উন্নয়ন ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ঢাকায়। সে হিসেবে ২০০৩ এবং ২০০৪ সালে ঢাকাতেই বিডিএফ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। মাঝখানে আর এ বৈঠক হয়নি।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ওই সরকার গণতান্ত্রিক সরকার না হওয়ায় উন্নয়ন সহযোগিরা বিডিএফ বৈঠকে বসার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালের ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় সর্বশেষ বিডিএফ বৈঠক। সেখানে ৭টি খাতে ২৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এগুলোর জন্য সময়ও নির্ধারণ করে দেয় দাতারা। এছাড়া ওই বছরেই ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিডিএফ মূল্যায়ন বৈঠক।

ওই মূল্যায়ন বৈঠকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি বিশ্লেষনে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল সুসাশন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি খাত। দাতাদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনাগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। বিডিএফ ও জাতীয় কৌশল, যৌথ সহাতা কৌশল ও বিদেশি সহায়তার কার্যকারিতা, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবহন ও যোগাযোগ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা অগ্রগতি ছিল ধীর।

অর্থসূচক/মাইদুল

এই বিভাগের আরো সংবাদ