খালেদার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা

খালেদার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে চলছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ আবু আহমেদ জমাদারের অস্থায়ী আদালতে চলছে এই মামলার কার্যক্রম। খালেদা জিয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন করেছেন তার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া।

Khaleda_Court_2

দুর্নীতির দুই মামলায় বকশীবাজারের বিশেষ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

আবেদনে বলা হয়েছে, চোখের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তাই তিনি আদালতে হাজির হতে পারছেন না। এ কারণে সময় আবশ্যক। শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেন।

আজ সকালে মামলাটির ১৯তম সাক্ষী (জব্দ তালিকার সাক্ষী) মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের এমডি এ.এফ.এম. জাহাঙ্গীর হোসেনকে জেরা শুরু করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বিএনপির চেয়ারপার্সনের পক্ষে জেরা করছেন তার আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান।

এরপর পর্যায়ক্রমে ২০তম সাক্ষী মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ডিএমডি মাইনুল ইমরান চৌধুরীকে জেরা ও পরবর্তী সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানমের কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’-এর নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। কিন্তু জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত এক কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেওয়া হয়েছে বলে কাগজপত্রে দেখানো হয়, যার কোনো বৈধ উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি। জমির মালিককে দেওয়া ওই অর্থ ছাড়াও ট্রাস্টের নামে মোট তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

ওই মামলার অপর আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

অন্যদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় আরো একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান।

২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে ৫ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি।

গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ নয়জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির দুই মামলায় অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ