তিন কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত পুঁজিবাজার
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার

তিন কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত পুঁজিবাজার

দীর্ঘ দিন ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে মন্দা চলছে। লেনদেন ব্যাপক হারে কমে গেছে। আর প্রতিনিয়তই কমছে মূল্যসূচক। চলতি মাসে এ মন্দা তীব্রতর হয়ে উঠেছে। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে চার হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে আসে। দিনশেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৪৪৪৩ পয়েন্ট, যা গত ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

Stock-Bleeding

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি-প্রতীকীচিত্র

এক মাসের কাছাকাছি সময়ে ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৪শ পয়েন্ট। গত ১ অক্টোবর এই সূচকের ৪ হাজার ৮৫৬ পয়েন্ট। এর বড় অংশই কমেছে গত দুই সপ্তাহে।

টানা দর পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক আর হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী-কেউই এখন স্বস্তিতে নেই। সবারই জিজ্ঞাসা-এ পতনের শেষ কোথায়। যদিও বাজার বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, এতটা আতঙ্কিত হওয়ার মত কিছু নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে চাইলে এটাই শেয়ার কেনার উপযুক্ত সময়।

রোববার টানা তৃতীয় দিনের মত দর পতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। এদিন ডিএসইএক্স কমেছে ৫৯ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৩১ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই নাজুক অবস্থার পেছনে তিনটি বড় কারণ রয়েছে। এসব কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে বাজার। এগুলো হচ্ছে- পুঁজিবাজারে কিছু ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের চাপ, বড় মূলধনের কয়েকটি কোম্পানির মুনাফা কমে যাওয়া এবং হঠাৎ সৃষ্ট তীব্র নিরাপত্তাহীনতা।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের সংশোধনীর ফলে পুঁজিবাজারে কিছু ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি হয়ে পড়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে এ বিনিয়োগ সমন্বয় করতে হবে। আর তা করার জন্য এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এই বিপুল শেয়ার বিক্রির চাপ বাজারের মন্দাবস্থাকে আরও তীব্র করতে পারে বলে অনেকের আশংকা। এর ছাপ পড়েছে বাজারে।

বাজারে সাম্প্রতিক দর পতন শুরু হয় লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ও গ্রামীণফোনের শেয়ারের টানা দর হারানোর মধ্য দিয়ে। সর্বশেষ প্রান্তিকে দুটি কোম্পানিরই মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে। বাজার মূলধনের দিক থেকে শীর্ষ দশে অবস্থান এই দুই কোম্পানির। এদের শেয়ারের দর হারানোতে বাজারে চোখে পড়ার মত সূচক পতন হয়। আর এ থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শুরু হয় নার্ভাসনেস।

গত মাসে দুই বিদেশি হত্যা এবং পরবর্তীতে দিনের বেলায় অফিসের ভেতর দুই প্রকাশকের উপর হামলার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজেদেরকে নিরাপত্তাহীন ভাবতে শুরু করে। এমন অবস্থা চললে দেশে বিনিয়োগ কমে যাবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি হোঁচট খাবে এমন আশংকায় অনেক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজার নিয়ে এত বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। শেয়ারের যে মূল্যস্তর, তাতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে লোকসানের কোনো আশংকা থাকবে না। তবে অবশ্যই মুনাফা ও প্রবৃদ্ধির অতীত ধারাবাহিকতা এবং তার সম্ভাবনাকে বিচারবিশ্লেষণ করে শেয়ার নির্বাচন করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশ্লেষক বলেন, বিনিয়োগকারীরা ‘অতিমাত্রায় প্রতিক্রিয়া’ দেখাচ্ছেন। দীর্ঘদিন বাজারে ধীরগতি থাকায়, অল্পতেই তারা কাতর হয়ে পড়ছেন।

তিনি বলেন, আগামী বছরের জুনের মধ্যে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয় করতে হবে। সময় বাড়ানোর ইস্যুটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত সময় বাড়লে বাড়তেও পারে। তাই এত আগেই এই ইস্যুতে ভেঙ্গে পড়া ঠিক নয়। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির উচিত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলাপাআলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বের করে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো।

করপোরেট আর্নিংস বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে লাফার্জ ও গ্রামীণফোন ছাড়া আরও অনেক কোম্পানি রয়েছে। এদের বেশিরভাগেরই মুনাফা বেড়েছে শেষ প্রান্তিকে। তাই দুটি কোম্পানির বিষয়কে এত বেশী গুরুত্ব দিয়ে সরলীকরণ যৌক্তিক নয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ