জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত ঢাবির ই-লাইব্রেরি
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত ঢাবির ই-লাইব্রেরি

জ্ঞান চর্চায় প্রয়োজন বই। আর বই পড়ার উপযুক্ত জায়গা লাইব্রেরি। তবে এই  আধুনিক প্রযুক্তির যুগে বিশ্ব যখন ‘পেপারলেস’ ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে তখন নিজেকে সমৃদ্ধ করতে প্রয়োজন ই-লাইব্রেরি।

সাম্প্রতিক সময়ে মুহূর্তেই বিশ্বের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে ই-লাইব্রেরি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দেশেও নেওয়া হচ্ছে এমন উদ্যোগ। তেমনই একটি ই-লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে। যা ইতোমধ্যেই উপমহাদেশের সবচেয়ে বৃহত্তম ই-লাইব্রেরি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

DU_E Library_1

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ চালু করে দেশের প্রথম ডিজিটাল ই-লাইব্রেরি। ছবি মহুবার রহমান

পূর্ব থেকে পশ্চিমে ২৬০ ফুট দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ১২ হাজার বর্গফুটের এই লাইব্রেরিতে রয়েছে অত্যাধুনিক সুবিধা।

লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা জানান ফেরদৌসি বেগম জানালেন, এই লাইব্রেরিতে একইসঙ্গে ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করতে পারবে। লাইব্রেরিটিতে রয়েছে দেশি-বিদেশি ২৫ হাজার জার্নাল এবং ৩০ হাজার ই-বুক।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৩৫টি লাইব্রেরির অনলাইন সংযোগও এখানে রয়েছে বলে বলে জানান ফেরদৌসি বেগম।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা, সুসজ্জিত আসবাবপত্র আর শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ নিয়ে সাজানো হয়েছে লাইব্রেরিটি।

DU_E Library_2

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ই লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীরা। ছবি মহুবার রহমান

লাইব্রেরির ভেতরে রয়েছে আলাদা আলাদা সেকশন। বই সরবরাহের জন্য ডেলিভারি সেকশন, শিক্ষকদের জন্য লাউঞ্জ ও মিটিং সেকশন, সবার জন্য আছে রিডিং সেকশন, ব্রাউজিং সেকশন, জার্নাল সেকশন, মুক্ত আলোচনা কক্ষ, ক্যাফে, ফটোকপি অ্যান্ড প্রিন্টিং সেকশন এবং খাবার-দাবার জন্য পেস্ট্রি সেকশন।

পশ্চিম পাশে এক কোণে রয়েছে সার্ভার কক্ষ। এছাড়াও লাইব্রেরির গেটের বাইরে পূর্ব পাশে আছে আড্ডা দেওয়ার জন্য মনোরম জায়গা। লাইব্রেরিতে মোট তিনটি গেট রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদ বিভাগ সূত্র জানায়, ডিজিটাল ই-লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার জন্য গত বছরের ১০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান রবির মধ্যে সমঝোতা চুক্তি সই হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ চালু করে দেশের প্রথম ডিজিটাল ই-লাইব্রেরি। চুক্তি অনুযায়ী ই লাইব্রেরির কম্পিউটার, ওয়াই-ফাই সংযোগসহ প্রয়োজনীয় সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে টেলিকম কোম্পানীটি। আর কো-ফিন্যান্সার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করেছে ডেল, ওরিয়ন গ্রুপ ও লজিক সফটওয়্যার।

DU_E Library_4

লাইবেরিয়ান ফেরদৌসি বেগমের সঙ্গে কথা বলছেন অর্থসূচক প্রতিনিধি মেহেদি হাসান

লাইবেরিয়ান ফেরদৌসি বেগম বলেন, এ লাইব্রেরিতে শুধুমাত্র ব্যবসায় অনুষদের শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করতে পারবে। তবে পরবর্তীতে লাইব্রেরির পরিসর বাড়ানো হলে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, লাইব্রেরির সদস্যদের ম্যাগনেটিক পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। এ আইডি কার্ড ব্যতীত কোনো শিক্ষার্থী লাইব্রেরির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে না। ১০০টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করে লাইব্রেরির সদস্য হতে হবে। তবে প্রতি বছর আইডি কার্ড নবায়ন করতে হবে। শুক্র ও শনিবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে এ লাইব্রেরিটি।

ই-লাইব্রেরি নিয়ে ব্যবসায় অনুষদের ছাত্র-ছাত্রীদের যেন আগ্রহের কমতি নেই। তাদের মতে, দেশের প্রথম ডিজিটাল ই লাইব্রেরিটি শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যাবে এক অন্যন্য উচ্চতায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হামিম হাসান বলেন, এই লাইব্রেরির মাধ্যমে আমরা  বিশ্বের  শীর্ষস্থানীয় ৩০ টি দেশের লাইব্রেরির বই পড়তে পারছি। এখানে রয়েছে বিশ্বমানের সব সুযোগ-সুবিধা।

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. ইলিয়াস বলেন, এ লাইব্রেরি প্রযুক্তিগত দিক থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ই-লাইব্রেরি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির বই, জার্নাল, গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ পড়তে পারছি।

DU_E Library_3বিবিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মনির বলেন, এত উন্নত মানের লাইব্রেরি পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। এতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও গতি আসবে।

তবে এ লাইব্রেরি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, এখানে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ লাইব্রেরি শুধু ব্যবসায় অনুষদ ব্যবহার করবে তা ঠিক নয়। এখানে সবাইকে সুযোগ দেওয়া উচিত।

অর্থসূচক/এমএইচ

এই বিভাগের আরো সংবাদ