মেনোপজ পরবর্তী সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে হরমোনে!
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লাইফস্টাইল

মেনোপজ পরবর্তী সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে হরমোনে!

মেনোপজের পরে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে অনেকেরই নানান ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি  হয়। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে হরমোন থেরাপি!

মেনোপজ পরবর্তী সমস্যা দূর করবে হরমোন থেরাপি।ছবি সংগৃহীত

মেনোপজ পরবর্তী সমস্যা দূর করবে হরমোন থেরাপি।ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি বিশেষজ্ঞরা এমনই দাবি করছেন।

তারা বলছেন, হরমোন থেরাপির মাধ্যমে দেহে হরমোনের সরবরাহ বজায় রাখা এবং আবার ঋতুস্রাব চালু করা সম্ভব। তবে প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে এটা কতটা কার্যকরী তা নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মনে ছিল নানা প্রশ্ন। অধিকাংশ বিশেষজ্ঞই এই থেরাপির বিরোধিতা করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন সামনে আসার পরে এ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন বিষেজ্ঞরা।

‘আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাকটিভ মেডিসিন’-এ পেশ হওয়া ওই সমীক্ষা প্রতিবেদন স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞদের চিন্তার জগতকে আবারও নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে।

একনাগাড়ে ১৪ বছর ধরে সমীক্ষাটি চালিয়েছেন নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা। তারা  দুই ধরনের নারীদের উপরে এই সমীক্ষা চালিয়েছেন। এক. যারা মেনোপজের পরে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি করিয়েছেন। দুই. যারা সেটা করাননি। প্রতি বছর নিয়ম করে এদের শরীরের যাবতীয় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যারা ওই থেরাপি করিয়েছেন তাদের শারীরিক অবস্থা কোনো অংশেই অন্য দলের চেয়ে খারাপ নয়। বরং মেনোপজ পরবর্তী জটিলতাগুলোকে এরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন সহজেই।

তবে হরমোন থেরাপির বিপক্ষে থাকা বিশেষজ্ঞদের মত, এ থেরাপিতে হার্টের সমস্যা, স্তন বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা সেই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, মেনোপজের পরে নারীদের শরীরে যখন ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি দেখা যায়, তখন প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১৫ জনের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। এগুলো হলো অস্বাভাবিক গরম লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ব্যথা, ঘন ঘন মুড বদলানো, খিটখিটে মেজাজ, মূত্রনালীতে জ্বালা, যোনি শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। শুরু হতে পারে গভীর অবসাদও। এ ছাড়াও অস্টিওপোরোসিস-এ আক্রান্ত হন অনেকে। এর প্রতিকারের জন্যই হরমোন থেরাপির আবিষ্কার হয়। যাদের কোনো অস্ত্রোপচারে ডিম্বাশয় বাদ দেওয়া হয়, তাদের ক্ষেত্রেও হরমোন থেরাপি জরুরি।

৬০-এর দশকে বিশ্বে প্রথম হরমোন থেরাপি শুরু হয়। ৮০-র দশক নাগাদ এর কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও সামনে আসে। ৯০-এর দশকে বিতর্ক কিছুটা কমে গেলেও ২০০৩ সাল নাগাদ দুটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন হরমোন থেরাপির বেশ কিছু ঝুঁকির প্রসঙ্গ তুলে ধরে। তাতে ক্যান্সারের ঝুঁকির কথাও উল্লেখ ছিল। পরে অবশ্য তা খণ্ডনও করা হয়।

এদেশে হরমোন থেরাপি শুরুর বয়স বেশি নয়। তবে শুরু থেকেই এ নিয়ে বেশ কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের মতে, মেনোপজের কারণে অস্টিওপোরোসিস হয় এটা পুরোপুরি মিথ (কল্পনা)।

তিনি বলেন, ‘‘খুব অল্প বয়সে (৩৫ বছরের কম) যদি কারো মেনোপজ বা প্রিম্যাচিওর ওভারিয়ান ফেলিওর হয়, তাহলে এই থেরাপি নিয়ে ভাবা যেতে পারে। এছাড়া সঠিক সময়ে মেনোপজের পরে যদি কোনো নারী খুব বেশি হট ফ্লাশ-এর সমস্যায় ভোগেন তাহলে তাকে খুব অল্প সময়ের জন্য এই ওষুধ দেওয়া যায়। বাদ বাকি কোনো  ক্ষেত্রে এটা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রকৃতিও তার শোধ নেয়।’’

বছর কয়েক আগেও মনে করা হত এই থেরাপি করালে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর এমন ধরনের স্তন ক্যান্সার হয় যার কোনো চিকিৎসা নেই। এখন অনেকেই বলছেন, থেরাপিতে প্রয়োজনীয় কিছু কাটছাঁট করা হলে তা খুবই ফলদায়ী হতে পারে।

 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ