৩ মাসে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি শূন্য
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

৩ মাসে বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি শূন্য

চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে মোট ৫৭৩ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্ত অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ) উন্নয়ন সহযোগিদের কাছ থেকে ঋণের কোনো প্রতিশ্রুতিই আদায় হয়নি।

তবে এ সময়ের মধ্যে দাতাদের সঙ্গে ঋণ চুক্তি না হলেও সামান্য পরিমাণে অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে সরকার; যার পরিমাণ মাত্র ৫ কোটি ২৮ লাখ ডলার।

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

গত অর্থবছরের একই সময়ে দাতাদের কাছে মোট প্রতিশ্রুতি আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ৩৮ কোটি ডলার। আর অনুদান ছিল ৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (ইআরডি) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে৷

এদিকে উন্নয়ন সহযোগিদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি আদায় না হলেও অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে অর্থছাড় বেড়েছে।

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, প্রথম ৩ মাসে মোট অর্থছাড় হয়েছে ৫০ কোটি ২২ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ হিসাবে ছাড় হয়েছে ৪০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। আর অনুদান হিসাবে ছাড় হয়েছে ৯ কেটি ৪৩ লাখ ডলার।

এদিকে দাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থছাড় দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে সংস্থাটি ঋণ হিসাবে ১৯ কোটি ২০ লাখ ও ৫ কোটি ৭৩ লাখ ডলার অনুদান হিসেবে ছাড় করেছে।

জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) ঋণ হিসাবে ৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার এবং অনুদান হিসাবে ৩৮ লাখ ডলার অর্থছাড় দিয়েছে।

এছাড়া এডিবি ৭ কোটি ৬২ লাখ ডলার (ঋণ), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার (ঋণ), রাশিয়া ২ কোটি ২৭ লাখ ডলার (ঋণ) ছাড় করে। অনুদান হিসাবে জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) অনুদান ছাড় করে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার।

গতবছরের একই সময়ে মোট অর্থছাড়ের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ১ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণ ৪২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আর অনুদান ৪ কোটি ৭ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকার ঋণের সুদও আসল হিসাবে  বিভিন্ন দাতা সংস্থাকে মোট পরিশোধ করেছে  ২৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল ১৮ কোটি ২০ লাখ ডলার আর সুদ ৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আসল ও সুদসহ পরিশোধের পরিমাণ ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল ৩০ কোটি ১৪ লাখ ডলার আর সুদ ৫ কোটি ৩১ লাখ ডলার।

প্রতিশ্রুতি না আসার কারণ সম্পর্কে (ইআরডি) কর্মকর্তারা  জানান, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ইআরডি এখন পর্যন্ত দাতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের ঋণের প্রতিশ্রুতি চুক্তি করতে পারেনি।

এ অর্থবছরের মাত্র ৩ মাস গেল দাতারা আমাদের কর্মকাণ্ড অবজারব করবে এরপর তারা প্রতিশ্রুতি দেবে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলে দাতাদের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি হবে বলে আশা করছে ইআরডি।

উল্লেখ, চলতি অর্থবছরে দাতাদের কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে মোট ৫৭৩ কোটি ডলারের বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বিদায়ী ২০১৪-১৫ অর্থবছরেও দাতাদের কাছ থেকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক সহায়তা আদায় করতে পারেনি সরকার। উন্নয়ন প্রকল্পে ৬০০ কোটি ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল মাত্র ৫২১ কোটি ডলার।

অর্থসূচক/মাইদুল ইসলাম

এই বিভাগের আরো সংবাদ