বালিতেও ইইউ'র জিএসপি নিয়ে সাবধানবাণী
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি

বালিতেও ইইউ’র জিএসপি নিয়ে সাবধানবাণী

wto-baliঅগ্রাধিকার বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি ইস্যুতে আবারও বাংলাদেশকে সতর্ক করে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর এ জোট বলেছে,  ইইউতে অগ্রাধিকারমূলক বা শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ধরে রাখতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই শ্রম অধিকার ও কারখানা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যর্থ হলে সুবিধা বাতিলের মত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য কমিশনার কারেল দ্য গুচে বুধবার ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন শহর বালিতে এসব কথা বলেন। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন  বুধবার  এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশি সাংবাদিকরা  তার কাছে জিএসপি ইস্যুতে ইইউ’র সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন।

এদিকে একই দিনে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ইইউতে জিএসপি হারানোর বিষয়ে খুব বেশি শঙ্কা নেই। কারখানার নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকার ইইউ ও আইএলও’র সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে  সরকারের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া  গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি পুনর্বহালের জন্য কারখানার পরিবেশ ও শ্রম নিরাপত্তা ইস্যুতে দেশটির দেওয়া অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের যে প্রতিবেদন  জমা দিয়েছে সরকার, তার একটি কপি ইইউতেও পাঠানো হয়েছে।

মাহবুব আহমেদ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নবম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব  দিচ্ছেন।

উল্লেখ, ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ প্রদেশ বালির নুসা দুয়া আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (বিএনডিসিসি) চারদিনব্যাপী এই সম্মেলন গত মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। আগামি শুক্রবার সম্মেলন শেষ হবে। সম্মেলনে যোগ দিতে আসা ইউ বাণিজ্য কমিশনার কারেল দ্য গুচে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইইউ বাণিজ্য কমিশনার বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করলেও তার প্রভাব খুবই সীমিত। কেননা, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক এই সুবিধা পেতো না। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ইবিএর (অস্ত্র বাদে সবকিছু) আওতায় জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘তোমরা যদি এই সুবিধা ধরে রাখতে চাও, তাহলে অবশ্যই শ্রমিকের দরকষাকষির অধিকার ও কারখানার নিরাপত্তার বিষয়ে নজর দিতে হবে।’

কার্ল গুচে আরও বলেন,  ই্ইউ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এক্ষেত্রে যে রোডম্যাপ তৈরি করেছে তা যথাযথভাবে পরিপালন করে এগিয়ে যাওয়াই হবে দেশটির জন্য বড় সুযোগ।

গত বছর নভেম্বর মাসে  তাজরীন ফ্যাশনসের কারখানায় অগ্নিকান্ডে শতাধিক শ্রমিক এবং এ বছর এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসে সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার পর বিশ্ব সম্প্রদায় বাংলাদেশের ওপর শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত কতে চাপ তৈরি করে।  এরপরই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইইউ বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি (কমপ্যাক্ট এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করে। এর আওতায় ইইউ এক বছর ধরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের জীবন ও কর্ম পরিবেশ উন্নত করার  বিষয়টি পর্যালোচনা করবে।

বর্তমানে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ বছরে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ ভাগ আসে এ অঞ্চল থেকে। দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্য ইবিএ  (অস্ত্র ব্যাতিত সব কিছু) সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। এ সুবিধা না পেলে অন্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশি পণ্যকেও সাড়ে ১২ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হতো। এটি  আমাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে ব্যাহত করতো।

স্বল্পোন্নত দেশের মতৈক্য :

বুধবার বিকালে সম্মেলনের বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে মত বিনিময় করেন প্রতিনিধি দলের নেতা ও বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক অমিতাভ চক্রবর্তী এবং ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সবুর খান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য সচিব বলেন, এবারের সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ কি কি পাবে তা জানতে সম্মেলন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ বিরাজমান রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে শেষ পর্যন্ত বালি প্যাকেজ গৃহীত হবে কি-না তা নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে।

তবে তা না হলেও এ সম্মেলনে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু প্রাপ্তি আছে। এই প্রথম স্বল্পোন্নত দেশগুলো ( এলডিসি) তাদের সবার জন্য শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধার ব্যাপারে একমত হতে পেরেছে। এতদিন এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট বিরোধ ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশকে উন্নত দেশগুল্রে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলডিসির আপত্তি করে এসেছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ