নারীদের আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি আইনি সুবিধাও দিতে চায় ‘নিবেদিতা'
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ
অর্থসূচককে ফারজানা চৌধুরি

নারীদের আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি আইনি সুবিধাও দিতে চায় ‘নিবেদিতা’

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী মালয়েশিয়ান পণ্য প্রদর্শনী ‘৪র্থ শোকেস মালয়েশিয়া-২০১৫’।

Farjana Chowdhury

মেলার ফাঁকে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ফারজানা চৌধুরির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে গৃহীত বিভিন্ন স্কিম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অর্থসূচকের সঙ্গে কথা বলেন। ছবি মহুবার রহমান

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিএমসিসিআই) আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমসিসিআই প্রেসিডেন্ট ও গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাসির এ চৌধুরী।

মেলার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এ উপলক্ষে দুটি স্টলও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের; অপরটি গ্রীন ডেল্টার সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জিডি অ্যাসিস্টের।

মেলার ফাঁকে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ফারজানা চৌধুরীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে গৃহীত বিভিন্ন স্কিম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন অর্থসূচক প্রতিবেদক এস এম শাফায়াত।

অর্থসূচক: গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বিএমসিসিআই’র প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য এবং মেলার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক। মেলা উপলক্ষে কোনো নতুন স্কিম এনেছেন কি?

ফারজানা চৌধুরী: বিএমসিসিআই’র সদস্য ও মেলার অন্যতম স্পন্সর হিসেবে আমরা প্রতিবারই অংশ নিয়ে থাকি। এর প্রধান লক্ষ্য জনসাধারণকে আমাদের ব্যবসায়িক প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারনা দেওয়া। পাশাপাশি আমাদের বিশেষত্ব তুলে ধরা। যেমন আমরা নিয়মিত যেসব স্কিম নিয়ে কাজ করছি তা হলো- মোটর যান, হোম, ফায়ার, দুর্ঘটনা, ভ্রমণ, এনার্জি, মেরিন, প্রোপার্টি, ক্যাজুয়ালটি ইত্যাদি। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আমরাই প্রথম চালু করেছি ‘হেলথ স্কিম’ পলিসি।

একইসঙ্গে আমরা মালয়েশিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত ‘মালয়েশিয়ান হেলথ কেয়ার কাউন্সিলের (এমএসটিসি) রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসেবে কাজ করছি। এজন্য এমএসটিসি’র সঙ্গে আমাদের চুক্তিও রয়েছে। এর যাবতীয় ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে আমাদের আরেকটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান জিডি-অ্যাসিস্ট লিমিটেড।

অর্থসূচক: জিডি-অ্যাসিস্ট কোন ধরনের সেবা দিচ্ছে?

ফারজানা চৌধুরী: বাংলাদেশের মানুষ যাতে সহজে এবং নিশ্চিন্তে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারে সে জন্য সম্পূর্ণ বিনামূলে সব ধরনের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সহায়তা করে যাচ্ছে জিডি-অ্যাসিস্ট। বাংলাদেশের ১১টি ও এমএসটিসি’র অন্তর্ভুক্ত মালয়েশিয়ার ৮০টিরও বেশি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিতে সহায়তা করা হচ্ছে। এছাড়া ভারত ও থাইল্যান্ডের কিছু হাসপাতালেরও আমরা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ভিসা প্রসেসিং থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত কাজ, ট্রাভেল, হালাল ফুড এবং রেসিডেন্সের ব্যবস্থাপনাও করা হচ্ছে।

আমাদের ১ বছর মেয়াদী ‘হেলথ স্কিম’ পলিসির আওতায় যারা বিদেশে চিকিৎসা সেবা নিতে যায় তাদেরকে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস (টাকা ছাড়) চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে; যা প্রতি বছর নবায়ন করে নেওয়া যায়। এছাড়া আমাদের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গেলে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু রোগীর জন্য নয়; তার সঙ্গে যারা যাবেন সবাইকেই এই ছাড় দেওয়া হয়।

অর্থসূচক: বাংলাদেশের নারীদের জন্য আপনাদের বিশেষ কোনো স্কিম আছে কি না। আর এই মেলার মাধ্যমে নারীরা কী ধরনের সেবা পেতে পারবে?

ফারজানা চৌধুরী: হ্যাঁ, নারীদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের স্পেশাল একটি স্কিম রয়েছে; যার নাম ‘নিবেদিতা’। এ স্কিমের মাধ্যমে গ্রাম ও শহরের নারীদের যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বা শারীরিক অক্ষমতা বা বিকলঙ্গতার জন্য বিমা সুবিধা দেওয়া হয়।

‘নিবেদিতা’র আওতায় আমরা প্রাথমিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নারীদের জন্য একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার খোলার চিন্তা করছি। যেটির মাধ্যমে আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি ধর্ষণ, এসিড আক্রান্ত বা দূর্ঘটনাজনিত কারণে মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত নারীদের কাউন্সেলিং সুবিধা বা সাইকো থেরাপিসহ প্রয়োজনে আইনি সুবিধাও দেওয়া যায়। এ জন্য আমরা নারীদের সহযোগিতায় কাজ করে এমন সংগঠনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চাই। এক কথায় আমরা চাই নারীরা নিজেদেরকে আর অসহায় এবং দুর্বল মনে না করতে পারে। তারা যেন সব দিক থেকে নিরাপদ থাকে।

অর্থসূচক: বিএমসিসিআই’র প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড সদস্য হিসেবে রয়েছে। এবং চতুর্থবারের মতো এ ধরনের মেলার আয়োজনে রয়েছে। এ পর্যায়ে এসে আপনাদের প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির অবস্থা কেমন?

ফারজানা চৌধুরী: বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিশ্বস্ত বন্ধু রাষ্ট্র ও ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে সবসময় তারা আমাদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সে সম্পর্কের জের ধরে গ্রীন ডেল্টা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে নতুন নতুন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ