বিও একাউন্টে ফ্রি ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দিচ্ছে গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পুঁজিবাজার
নারী ও ছাত্রদের জন্য বিশেষ প্রোডাক্ট

বিও একাউন্টে ফ্রি ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দিচ্ছে গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্রোকারহাউজ গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেড (জিডিএসএল) দুটি ব্যতিক্রমী সেবা চালু করেছে। নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এসেছে নিবেদিতা নামের বিনিয়োগ একাউন্ট। আর ছাত্রদের জন্য এনেছে বিনিয়োগ একাউন্ট বিজয়। দুটি একাউন্টেই বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে ফ্রি ইন্স্যুরেন্স সুবিধা। দেশের পুঁজিবাজারে এ ধরনের প্রোডাক্ট একেবারেই নতুন ও অভিনব। জিডিএসএল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

GDCL-Logo-2

গ্রীনডেল্টা ইন্স্যুরেন্স সিকিউরিটিজের লোগো

গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিএসইর পুঁজিবাজার মেলায় প্রোডাক্ট দুটি উদ্বোধন করা হয়।

একই দিনে জিডিএসএল জিডি প্রিভিলেজ নামে আরও একটি নতুন প্রোডাক্ট চালু করেছে।

এ তিন একাউন্টের গ্রাহকদের জন্য বিমা সুবিধা ছাড়াও নানা আয়োজন রয়েছে জিডিসিএলের। এর মধ্যে আছে দেশের বাইরে একাধিক হোটেলে মূল্য ছাড়ের সুবিধা।

জানা গেছে, নারী ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা, পুঁজিবাজার সম্পর্কে ভালো ধারণা দেওয়া, সচেতনতা বৃদ্ধি আর বাজারের ব্র্যান্ডিংকে সামনে রেখে এসব প্রোডাক্ট চালু করা হয়েছে।

১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কোনো তরুণী ও নারী নিবেদিতা প্যাকেজের আওতায় বিনিয়োগ হিসাব খুলতে পারবেন। এ হিসাবের জন্য ন্যুনতম ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। জিডিএসেলে নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য রয়েছে লেনদেনের জন্য আলাদা কক্ষ ও ওয়ার্কস্টেশন।

নিবেদিতার গ্রাহকরা কলকাতার কিছু নির্বাচিত হোটেলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। দেশের নির্দিষ্ট কিছু দোকানে কেনাকাটায়ও মিলবে বিশেষ ছাড়

এ একাউন্টের গ্রাহকদেরকে বিনামূল্যে (without premium) স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা দিচ্ছে জিডিসিএল। এছাড়া কলকাতার কিছু নির্বাচিত হোটেলে এই গ্রাহকরা পাবেন বিশেষ ৫০ শতাংশ ছাড়। দেশের নির্দিষ্ট কিছু দোকানে কেনাকাটায়ও মিলবে বিশেষ ছাড়।

বিজয় স্টুডেন্ট ইনভেস্টমেন্ট একাউন্টে যে কোনো ছাত্র-ছাত্রী হিসাব খুলতে পারবে। তবে তার বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। এ একাউন্টে ন্যুনতম জমার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা।

বিজয় একাউন্টে বিনা প্রিমিয়ামে গ্রাহকরা পাবেন দূর্ঘটনা বিমার কাভারেজ। অর্থাৎ কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে তার চিকিৎসায় নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ মিলবে এ হিসাবের গ্রাহকদের।

জিডি প্রিভিলেজ একাউন্টে আছে অগ্রাধিকার সেবা। এ হিসাব খোলার জন্য ন্যুনতম ২০ লাখ টাকা জমা করতে হবে। এ হিসাবের গ্রাহকদের বিশেষ সেবা নিশ্চিতে থাকছেন সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তা। এ হিসাবেও রয়েছে বিনা প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা। এছাড়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের নির্বাচিত হোটেলে গ্রাহকরা পাবেন বিশেষ ছাড়।

নিবেদিতা ও বিজয় চালু করার পেছনে যতটা না ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গী কাজ করেছে, তারচেয়ে ভূমিকা রেখেছে পুঁজিবাজারকে প্রমোট করার তাগিদ

তিনটি একাউন্টের গ্রাহকের জন্যই রয়েছে ইন্টারনেটে লেনদেন সুবিধা। ফোনে, এসএমএস পাঠিয়েও শেয়ার কেনাবেচা করা যায়। এছাড়া বিনা ফিতে জিডিএসএল গ্রাহকদের দিচ্ছে লেনদেন ও আইপিও সংক্রান্ত তথ্যের এসএমএস ও ইমেইল সেবা।

এ বিষয়ে গ্রীনডেল্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াফি শফিক মিনহাজ  খান অর্থসূচককে বলেন, নিবেদিতা ও বিজয় চালু করার পেছনে যতটা না ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গী কাজ করেছে, তারচেয়ে ভূমিকা রেখেছে পুঁজিবাজারকে প্রমোট করার তাগিদ। আমরা চাই নারী ও শিক্ষার্থীদেরকে এ বাজারের সাথে পরিচিত করাতে, তাদের কাছে এ বাজারের গুরুত্ব তুলে ধরতে, সচেতনতা বাড়াতে।

তিনি বলেন,  পুরুষদের তুলনায় মেয়েরা একটু বেশী সঞ্চয়ী মনোভাবে। এমনকি একজন গৃহবধূও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে সঞ্চয় করেন। তারা সাধারণত এ টাকা ব্যাংকে রাখেন। কিন্তু সুদ হার কমে যে পর্যায়ে এসেছে, তাতে ব্যাংকে টাকা রাখা মোটেও লাভজনক নয়। আমরা চাই তারা পুঁজিবাজারে আসুন, জেনেশুনে, বুঝে বিনিয়োগ করুন। এতে তাদের মুনাফা ব্যাংকের সুদ হারের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ওয়াফি মিনহাজ খান বলেন, অনেক ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি টিউশনি বা পার্টটাইম চাকরি করেন।  এতে তাদের হাতে কিছু টাকা আসে। আবার ওই টাকা নানাভাবে খরচও হয়ে যায়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই পরিবার থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা নিয়ে আসেন। আর এ টাকার যথেষ্ট অপচয়ও হয়। তাদেরকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা গেলে বাড়তি খরচ বা অপচয়টা হয়তো হবে না। এটা এক ধরনের ফোর্সড সেভিংসের মতো হবে। শেয়ারের লেনদেন করতে গিয়ে তাদের মধ্যে বাজার সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ঠেকে ঠেকে তারা অনেক কিছু শিখবেন। পরবর্তীতে এদের অনেকেই হয়তো পুঁজিবাজারে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী হবেন। এতে বাজারে মেধাবী জনবল বাড়বে। অন্যদিকে তারা ভিন্ন কোনো পেশায় গেলেও কেউ কেউ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগে থেকে যাবেন। এভাবে পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়বে।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ