বিদেশিদের যারা খুন করেছে তাদের খুঁজে বের করবই: প্রধানমন্ত্রী
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বিদেশিদের যারা খুন করেছে তাদের খুঁজে বের করবই: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিদেশিদের যারা খুন করেছে, তাদের খুঁজে বের করবই। বিচারও করব।

PM_FBCCI

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ আইটিইউর আাইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করায় আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এফবিসিসিআইয়ের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি পিআইডির

তিনি বলেন, দেশের ভাবমূর্তি যারা ক্ষুণ্ণ করছে, যারা জঙ্গিবাদের মদদ দিচ্ছে, তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং আইসিটি পুরস্কার অর্জন করায় এফবিসিসিআই- এর দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এফবিসিসিআই এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ যখনই বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, বাংলার মানুষ যখনই মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়, তখনই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে সময় আমাদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে পুরস্কৃত করছে, ঠিক তখনই দুইজন বিদেশিকে হত্যা করা হল। এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে, স্বাচ্ছন্দে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, এটাই তার সরকারের চাওয়া।

তিনি বলেন, আমি সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাংলার মাটিতে এসেছি। আমার পাওয়ার আর কিছু নেই। তবে যারা এ দেশের ক্ষতি করতে চায় তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

‘বাঙালী জাতিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের এ উদ্বৃতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশ তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে মাথা উঁচু করে চলবে।

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য তার সরকার এমন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বাঙ্গালী জাতি বিশ্বসভায় মাথা উচুঁ করে চলতে পারবে।

পরিবেশ রক্ষায় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতি সম্প্রদায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আপনারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময় পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়গুলো যথাযথভাবে পালন করলে সরকারের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যায়।

তিনি শিল্প-কারখানার জন্য জমি কেনার সময় কৃষি জমি, জলাধার ও পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দেয়ার অনুরোধ জানান।

হাসপাতালসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নদীর পানি দূষণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।

কৃষি সম্পদ নষ্ট করা যাবে না, ব্যবসায়ীদের এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য এ মাটি থেকেই উৎপাদন করতে হয়। আগে ১২ মাসই সিম, ফুলকপি, লাউসহ নানা সবজি পাওয়া যেত না, এখন পাওয়া যায়। এটা এমনি এমনি হয়নি। এ জন্য আমাদের বিজ্ঞানীদের অনেক গবেষণা করতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরাই বন্যা, খরা এবং লবণাক্ততা সহিষ্ণু বেশ কয়েক প্রকারের ফসলের জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। যেগুলো বিরূপ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ফলন দিতে সক্ষম। তাই যেখানেই শিল্পায়ন গড়ে তুলবেন, জলাধার, প্রকৃতি ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, আমাদের দ্রুত সবুজ অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে হবে। এমনভাবে কল-কারখানা নির্মাণ করতে হবে যেখানে ক্ষতিকারক বর্জ্য উৎপন্ন হয়ে পরিবেশ দূষণ করবে না।

আওয়ামী লীগ ব্যবসা বান্ধব সরকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ দল ব্যবসা করে না, তবে ব্যবসা করে দেয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেয়। বর্তমার সরকার মূদ্রাস্ফীতি ৬ এর ঘরে রেখেছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা দেন এফবিসিসিআইয়ের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি মতলুব আহমেদ। এছাড়া আরও বক্তৃতা করেন সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রথম সহ-সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম।

সূত্র: বাসস

এই বিভাগের আরো সংবাদ