বাংলাদেশ এখন গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকা: বদরুদ্দোজা চৌধুরী

b.choduriবিকল্প  ধারার  সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, কয়েকদিন ধরে রাজধানী ঢাকা সারা দেশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। তাই বাংলাদেশ এখন আর  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নয়; এটি বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী ঢাকা

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বদরুদ্দোজা  চৌধুরী বলেন, দেশ জ্বলছে শুধু একজনের কারণে। এ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়, গণতন্ত্র নিরাপদ নয়, ইসলাম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কোনো ধর্মই নিরাপদ নয়। এরা নিজেদের স্বার্থে সংবিধানকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করেছে।

সাবেক এ রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, শেখ হাসিনা জানে না বাংলাদেশের  মাটি দুর্জয়ের ঘাঁটি।  বাংলাদেশে এমন  কোনো শক্তি নেই,  যে শক্তি জনরোষের কবল থেকে হাসিনা  সরকারের পতন ঠেকাতে  পারবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশে আল্লাহ  ও রাসূলের নামে কোনো কটূক্তি করলে তাদের কোনো শাস্তি হয় না; কিন্তু শেখ হাসিনারর  বিরুদ্ধে  কিছু বললে সাতবছরের কারাদণ্ড হয়। তাহলে আল্লাহ ও রাসূলেলর চেয়েও কি হাসিনা বেশি কিছু? দেশের মানুষ নির্দলীয়  নিরপেক্ষ  সররকারেরর অধীনে  নির্বাচন চায়  উল্লেখ  করে হাসিনার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জণগণের মতের বিরুদ্ধে গেলে আপনার যে কি ভয়াবহ  অবস্থা  হবে তা  কেউ জানে না। আজ সারা বাংলা জ্বলছে, এর দায়ভার আপনাকেই নিতে  হবে, জাতির কাছে এর  জবাবদিহী করতে  হবে। ইতিহাস অত্যন্ত নির্মম; এটি কাউকেই ক্ষমা  করে না।

ইনু ও রাশেদ খানকে উদ্দেশ্য করে সাবেক এ রাষ্ট্রপতি বলেন, এরা  তো  নৌকার  ব্যানারে নির্বাচন করবে, তাহলে সর্বদলীয় বা বহুদলীয় নির্বাচন হবে  কিভাবে? এটা হবে আওয়ামী লীগের একদলীয় পাতানো নির্বাচন। আর এতে জনগণের মনের সঠিক প্রতিফলন ঘটবে না।

এরশাদকে স্বাগতম জানিয়ে তিনি  বলেন, আপনার শুভ  বুদ্ধির উদয় হয়েছে, আমরা  আল্লাহর কাছে  দোয়া  করি তিনি যেন  আপনার মাথায় আরও ভাল বুদ্ধির উদয় ঘটান।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সংলাপের সময় এখনও আছে। দেশকে বাঁচানোর লক্ষ্যে সংলাপে  বসুন, দেশে শান্তি  প্রতিষ্ঠা করুন। সামনে  যদি আরও সহিংসতা হয়  ইতিহাস আপনাকে ক্ষমা করবে  না। নির্মম পতনের শিকার হবেন।

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, দেশ এখন এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনো সময় এ আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। আর তখন এর লাভায় শেখ হাসিনা জ্বলে যাবে।

শেখ হাসিনাকে খুনি, রক্ত পিপাসু আখ্যায়িত করে বিএফইউজে’র একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ৭ দিনের অবরোধে ৪২ জন মানুষ প্রাণ  হারিয়েছে। আর কত রক্ত চান, আর কত প্রাণ  চান? দেশের ১৬ কোটি মানুষ স্বেচ্ছায় প্রাণ দিতে প্রস্তুত আছে। তবুও স্বরৈশাসক খুনি  হাসিনাকে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে দেওয়া  হবে না।

সমাবেশ শেষে তারা প্রেসক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে  কদম ফোয়ারা হয়ে পল্টন  মোড় প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে  আরও  বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.)  হাফিজ উদ্দিন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ডিইউজে সভাপতি কবি আবদুল হাই সিকদার, ড্যাবের  সভাপতি  ডা. আজিজুল হক, ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি এড. সানা উল্লাহ মিয়া  প্রমুখ।

জেইউ/এআর