মা ফেসবুকে, ছেলে পুকুরে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » টুকিটাকি

মা ফেসবুকে, ছেলে পুকুরে

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। সম্প্রতি এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতিদিন প্রায় এক কোটি মানুষ একবারের জন্য হলেও ফেসবুকে ঢু মারেন। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ওই যোগাযোগ মাধ্যমে সময় পার করেন, এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়।

সারাবিশ্বের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টায় ফেসবুক অ্যাপ তৈরি করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ। তার প্রচেষ্টা সফলও হয়েছে। মাত্র ১১ বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে ফেসবুক। দখল করেছে অফিস-বাসা, মাঠের আড্ডা। এমনকি ঘুমানোর ঘর, বসার ঘর, রান্না ঘরও এখন ফেসবুকের দখলে।

Clear Burnet

ক্লেয়ার বার্নেট ও তার শিশু সন্তান।

নিঃসন্দেহে বিশ্বের নানা প্রান্তের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করেছে ফেসবুক। দুই প্রান্তের মানুষের বন্ধুত্ব বা বৈবাহিক সম্পর্কও তৈরি হচ্ছে এই মাধ্যমে। প্রতিদিনই বিভিন্ন রকম মজার অভিজ্ঞতা দিচ্ছে জাকারবার্গের এই সৃষ্টি। তবে ফেসবুক শুধু যে হাসি-আনন্দ দেয়; তা কিন্তু নয়। অনেক আনন্দের মাঝে ফেসবুক আমাদের কষ্টও দেয়। গত বছর তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে লন্ডনের কাছের শহর ইস্ট ইয়র্কশায়ারের বেভারলিতে। ফেসবুকে মগ্ন এক নারী হারিয়েছেন তার প্রিয় শিশু পুত্রকে।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৪ সালের মার্চে বাড়ির বাগানের এক কোণায় বসে মোবাইল ফোনে ফেসবুক ব্যবহার করছিলেন ক্লেয়ার বার্নেট নামে ওই নারী। বাগানেই খেলছিল তার ২ বছরের শিশু সন্তান; পাশেই ছিল একটি পুকুর। খেলতে খেলতে পুকুরের দিকে এগিয়ে গেল ওই ছেলে। এক পর্যায়ে ফেসবুক বন্ধ হলো ক্লেয়ারের। এরপর ছেলের সন্ধানে পুকুরের দিকে গিয়ে সেখানে ডুবন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। এরপর ওই শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তার আগেই পৃথিবীর মায়াকে বিদায় জানালো ২ বছরের শিশুটি।

ক্লেয়ারের প্রতিবেশীরা আদাতলকে জানিয়েছিলেন, এর আগে আরেকবার ওই শিশুকে রাস্তার ওপরে খেলতে দেখা গিয়েছিল। সে সময়ও শিশুর ব্যাপারে উদাসীন ছিলেন তিনি।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শিশু সন্তানের প্রতি প্রয়োজনীয় নজরদারি না করায় আটক করা হয় ক্লেয়ারকে। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিচার কার্যক্রম শেষে তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিলেন আদালত। সেইসঙ্গে করা হয়েছে জরিমানাও।

দণ্ড ঘোষণার আগে বিচারক বলেন, আপনার অবহেলার জন্যই শিশু পুত্রের মৃত্যু হয়েছে। এর যন্ত্রণা আপনাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে। আপনি একেবারেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ