বাজারে নতুন ইলিশ, দাম চড়া
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

বাজারে নতুন ইলিশ, দাম চড়া

পনেরো দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে গতকাল শুক্রবার রাতে নদীতে নেমেছে জেলেরা। ফলে আজ শনিবার থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ। তবে সরবরাহ কম হওয়ায় এর দাম বেশ চড়া।

Hilsha Fish

নিষেধাজ্ঞার পর আজ শনিবার থেকে রাজধানীর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ।

রাজধানীর মালিবাগ বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. হানিফ অর্থসূচককে বলেন, গতকাল শুক্রবার রাত থেকে জেলেরা পদ্মা ও মেঘনায় ইলিশ ধরতে শুরু করছেন। পদ্মা ও মেঘনা নদী-সংলগ্ন ইলিশের আড়তগুলো থেকে ইলিশের চালান রাজধানীতে এখন তেমন একটা আসতে শুরু করেনি। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ অনেক কম। আজ রাতে রাজধানীতে ইলিশের অনেক চালান ঢুকবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামীকাল রোববার থেকে বাজারে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ পর আজ কয়েক জোড়া ইলিশ বাজারে আনলাম। বাজার আনার সঙ্গে সঙ্গে তা বিক্রি হয়ে গেছে। ৭০০-৭৫০ গ্রামের প্রতিটি ইলিশ ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এছাড়া ৪৫০-৫০০ গ্রামের প্রতিটি ইলিশ ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই দেশের নদীগুলোতে ইলিশ ধরতে নেমে পড়েছেন জেলেরা। এদিন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পদ্মা ও মেঘনা নদী-সংলগ্ন ইলিশের আড়তগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। কিন্তু শনিবার সকালে রাজধানীর বাজারগুলোতে নতুন ইলিশের দেখা তেমন একটা মিলেনি।

প্রসঙ্গত, ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও আশ্বিন মাসের পূর্ণিমার আগে ও পরে ১৫ দিন ইলিশ ধরাতে নিষেধাজ্ঞা করা হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ ছিল।

কারওয়ান বাজারের মা মাছ আড়তের মালিক সেলিম ভুঁইয়া বলেন, প্রতি বছরে দেখা গেছে- নিষেধাজ্ঞা ওঠার এক দিনে পরে রাজধানীর বাজারে ইলিশ আসে। এবারও এসেছে তবে অনেক কম। আশা করা যাচ্ছে, আগামিকাল থেকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেশ বেড়ে যাবে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ কম থাকায় সপ্তাহ ব্যবধানে বেশির ভাগ মাছ কেজিতে ৪০-৮০ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১২০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০-১৮০ টাকা, বাটা মাছ ২০০-২৬০ টাকা, মাঝারি তেলাপিয়া ১৬০-১৮০, চাষের কৈ ২৫০-৩০০ টাকা, বড় দেশী রুই ও কাতল ৪০০-৪৫০, আমদানিকৃত রুই-কালত ৩৫০-৪০০ টাকা, পোয়া ৫০০-৬০০ টাকা, মাঝারি চিংড়ি ৮০০-১০০০ টাকা, শিং মাছ ৫০০-৬৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মালিবাগ, কমলাপুরসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২০০-২২০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাঁচা পেপে ৩০-৩৫ টাকা। শশা ৪০ টাকা, বেগুন ৮০-৯০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, শিম ১২০-১৪০ এবং গাজর ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৭০-৭৫, ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০-৬৫ এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি আদা কেজি ১৪০ টাকা, ভারতীয় ১৩০ ও চীনের আদা ১০০ টাকা; দেশি রসুন ৮০-৮৫ ও চীনা রসুন ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে কোরবানির ঈদের পর মুরগির চাহিদা কমেছে। সেইসঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামও কিছুটা কমেছে। আজ ব্রয়লার মুরগি কেজি ১২৫-১৩০ টাকা, লেয়ার ১৪০ টাকা এবং ফার্মের মুরগির ডিম হালি ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এমআই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ