দেশের সাড়ে ২৮ হাজার মণ্ডপে পূজার আয়োজন
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

দেশের সাড়ে ২৮ হাজার মণ্ডপে পূজার আয়োজন

বাংলাদেশে সনাতনী ধর্মের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করেন। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে পূজার কার্যক্রম শুরু হলেও মূলত ১৯ অক্টোবর অর্থাৎ ষষ্ঠীর দিন থেকে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। চলবে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত।

Durga2

দুর্গার মূর্তি বানানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। ছবি মহুবার রহমান

আর কয়েকদিন পরই শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে মাতবে দেশ। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে চলছে প্রস্তুতি। মন্দির-মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, প্যান্ডেল-মঞ্চ স্থাপন, সাজসজ্জাসহ দিন-রাত চলছে নানা কাজ। দেশের সর্বত্রই সাজ-সাজ রব। ঢাকা মহানগরের ২২৫টিসহ দেশের প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার পূজামণ্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি।

আগামী ১২ অক্টোবর দুর্গাদেবীর আবাহন তথা মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীর আরাধনা। এক সপ্তাহ পর ১৯ অক্টোবর ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনধ্বনি অনুরণিত হতে শুরু করবে। ২০ অক্টোবর মহাসপ্তমী এবং ২১ অক্টোবর মহাঅষ্টমী ও কুমারী পূজা। সনাতন পঞ্জিকা মতে এবার ২২ অক্টোবর একই দিনে মহানবমী ও বিজয়া দশমী পড়ায় ওই দিন দর্পণ বিসর্জন হবে। তবে সারাদেশে ২৩ অক্টোবরই বিজয়া শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে ২৩ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন হওয়ায় রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপসহ অনেক মন্দির ও পূজামণ্ডপ এই সময়সূচিই অনুসরণ করছে। এ হিসেবে বরাবরের মতো এবারও পাঁচদিনজুড়েই চলবে উৎসবের নানা আয়োজন।

সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে পৃথিবীতে আসবেন; এর ফল হচ্ছে ফসল ও শস্যহানি। আর বিদায় নেবেন পালকি চড়ে; যার ফল হচ্ছে মড়ক।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এবার দেশে প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি হিসাবে ২৮ হাজার ৩৪৫টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরীতে গতবারের চেয়ে ৫টি মণ্ডপ বাড়িয়ে ২২৫টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের দুর্গোৎসবকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

পূরান ঢাকার মন্দির-মণ্ডপগুলোতে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত এই এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনায় চলছে পূজার প্রস্তুতি। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি রোড, বাংলাবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপ-মন্দিরগুলোতে পূজাকে ঘিরে ব্যস্ততাও চোখে পড়েছে। এ ছাড়া রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন, রমনা কালীমন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ী, রাজারবাগের বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির এবং মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ অন্যান্য পূজামণ্ডপে আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে শারদীয় উৎসবের নির্বিঘ্ন আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায়ও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিও দুর্গোৎসবকে ব্যাপক উৎসবমুখর করে তুলতে প্রতিদিনই প্রস্তুতিমূলক সভা করছে। গতকাল শুক্রবার সব পূজামণ্ডপ এবং পূজা কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভায়ও এ নিয়ে নানা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়; গোটা বাঙালিরই সার্বজনীন উৎসব। উৎসবটিকে সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বরাবরের মতো এবারও প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ