রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন (১৪) হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে আজ। তবে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম এখনও সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। ফলে তার অনুপস্থিতিতে আজ দুপুর ১২টায় সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকরব হোসেন মৃধার আদালতে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেন আকবর হোসেন মৃধা। সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিনগুলো হলো- ৪, ৭, ৮, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর।

rajon

সামিউল আলম রাজনকে অত্যাচারের ছবি।

সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন আজ রাজনের বাবা শেখ আজিজুল আলম, মা লুবনা বেগম এবং প্রথম মামলার বাদি জালালাবাদ থানার এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা থাকলেও রাজনের মা অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে এই মামলায় এখন পর্যন্ত আটক ১০ জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, রাজন হত্যা মামলায় ৩০ জনের বেশি সাক্ষী রয়েছেন। এদের অনেকেই প্রত্যক্ষভাবে এই ঘটনা দেখেছেন এবং অন্যরা পরোক্ষভাবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জেনেছেন। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মোট ১৫ দিন ধার্য করে করেছেন আদালত।

দ্রুত গতিতে এই বিচারকাজ শেষ করার লক্ষ্যে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আদালত।

বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে রাজনের পরিবার। তবে প্রধান অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকায় কিছুটা শঙ্কার কথাও জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, তাদের ওয়ার্কশপ থেকে একটি রিকশাভ্যান চুরির অভিযোগে গত ৮ জুলাই সকালে সিলেট মহানগরের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডে বড় রাস্তার ধারে দোকানঘরের খুঁটিতে বেঁধে লোহার রোলার দিয়ে পিটিয়ে রাজনকে হত্যা করা হয়। ওই নির্যাতনের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

রাজন হত্যাকাণ্ডের পর আসামি মুহিতকে বাঁচাতে এবং কামরুলকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠে সিলেটের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও রাজনের বাবার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগও ওঠেছে। এরপর গত ২৭ জুলাই দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে মহানগরের জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

রাজন হত্যা মামলায় মোট ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়। তবে প্রধান অভিযুক্ত কামরুলসহ ৩ জন পলাতক আছেন। অপর ১০ আসামি কারাগারে আটক আছেন।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর রাজন হত্যায় অভিযুক্ত কামরুল ইসলামকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এই বিভাগের আরো সংবাদ