শেষ মুহূর্তে আতর-টুপির দোকানে হিড়িক
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

শেষ মুহূর্তে আতর-টুপির দোকানে হিড়িক

একদিন বাদেই পবিত্র ঈদুল আযহা। পশু কেনা থেকে শুরু সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। শেষ সময়ে এসে অনেকটা ভিড় জমে উঠেছে রাজধানীর আতর, টুপি, তসবিহর দোকানে। চাহিদা ও রুচির বিবেচনায় দোকানিরাও বৈচিত্র্যপূর্ণ টুপি, নান্দনিক জায়নামাজ, সুন্দর তসবিহ ও সুঘ্রাণের আতরে পসরা সাজিয়েছেন। ফুটপাত থেকে শুরু করে ছোট বড় দোকানগুলোতে ক্রেতার ভিড়ে হিমশিম বিক্রেতারা।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, গুলিস্তান,এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মার্কেট, কাঁটাবন মসজিদ মার্কেট, পল্টন, মৌচাক মার্কেট, কাকরাইল মসজিদ মার্কেটসহ রাজধানীর প্রায় সব অভিজাত মার্কেটেই বিক্রি হচ্ছে ঈদের শেষ এসব প্রস্তুতিপণ্য।

tupi

টুপি- আতর বিক্রি করছেন এক দোকানি- ছবি সংগৃহীত

বুধবার কয়েকটি মার্কেটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৈরি আবহাওয়া সত্ত্বেও দাম আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে আতর, টুপি, সুরমা কিনে ঈদের শেষ প্রস্তুতির কাজটা সেরে নিচ্ছেন ক্রেতারা। মান ভেদে বিভিন্ন মার্কেটে কমবেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য।

ঈদের শেষ প্রস্তুতি পণ্যের বড় মার্কেট হচ্ছে রাজধানীর জাতীয় বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট। এ মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে সুন্দর কারুকার্যময় টুপি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায়, শৈল্পিক ডিজাইনের প্রতিটি জায়নামাজ পাওয়া যাচ্ছে ৮৫০ থেকে ৫ হাজার টাকায়, বিভিন্ন ধরনের তসবিহ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকায় এবং ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আতর।

হাফেজ মোদাচ্ছের নামের এক টুপি বিক্রেতা বলেন, ঈদ ঘনিয়ে আসছে, তাই বাড়ছে টুপি-আতর বিক্রি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ থেকে ৪শ’ টুপি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সুরমা ও সুগন্ধি আতর তো সমানে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশি- বিদেশি আতর বিক্রি করি। আজ বিক্রি অনেক ভালো। অনেক খুশি হয়েই দাম একটু কমিয়ে নিচ্ছি। সন্ধ্যার দিকে ভিড় আরও বাড়তে পারে।

বায়তুল মোকাররমে দেশি টুপির পাশাপাশি চীন, ভারত, পাকিস্তান ও দুবাই, মালয়েশিয়া থেকে টুপি আসে।

আবুল হোসেন নামের এক বিক্রেতা জানান, সবচেয়ে বেশি দামে টুপি বিক্রি হচ্ছে মালয়েশিয়ার তৈরি বেলবেট মাহতির টুপি; যার দাম ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। সৌদির বুগিস টুপি ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকা। পাকিস্থানি টুপি ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এর মধ্যে পাথরের কাজ করা পাকিস্থানি টুপি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মোটামুটি ভালোমানের একেকটি গোল টুপি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা।

আরেক বিক্রেতা জানান, দেশের বাজারের বেশির ভাগ আতরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হয়। এর মধ্যে হাটকরা উদ, স্টাইল উদ, হোয়াট উদ, আগর, আম্বার, রোজ আইটেম, দরবার, জান্নাতুল ফেরদৌস ইত্যাদি। বাজারে থাকা শতাধিক রকমের আতরের ছোট বড় বোতল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে দুবাই তৈরি হাটকরা উদ ২০ মিলিগ্রাম আতর ২০ হাজার টাকা। এক তোলা স্টাইল উদ ৪ হাজার টাকা, হোয়াট উদ ৬ হাজার টাকা। সব চেয়ে বেশি আগর, এক তোলা ৩২ হাজার টাকা। এছাড়া দরবার ও জান্নাতুল ফেরদৌস আতর এক তোলা ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

যশোরের ইমরান হোসেন চাকরি করেন প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। আজ রাতে ফিরবেন বাড়িতে। তিনি বলেন, সব কেনা-কাটা শেষ হয়ে গেছে। শুধু বাকি ছিল আতর, টুপি কেনা। তাই বায়তুল মোকাররম মার্কেটে এসেছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ