ঈদবাজারে জিরা সংকট; কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা
শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

ঈদবাজারে জিরা সংকট; কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকা

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশে প্রতি বছরই মসলা জাতীয় দ্রব্যের চাহিদা বাড়ে। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে এসব দ্রব্যের দামও। প্রতি বছর কোরবানির আগ মুহূর্তে দাম বাড়লেও চলতি বছরে মসলার বাজার অনেকটা স্থিতিশীল। জিরা ও কালোজিরার দাম বাড়লেও অধিকাংশ মসলার দাম তেমন বাড়েনি বললেই চলে।

Spices

কোরবানি উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের মসলার দোকানগুলোতে মসলা জাতীয় দ্রব্যের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে কারওয়ান বাজার থেকে ছবিটি তুলেছেন মহুবার রহমান

সম্প্রতি রাজধানীর পাইকারী বাজার শ্যামবাজার, কারওয়ান বাজার ও বেশকিছু খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এলাচ, দারুচিনি, আদা, রসুন, জিরা, মরিচ, ধনিয়া, হলুদসহ প্রয়োজনীয় মসলার দাম গত কয়েক মাস ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ভারতে বন্যার কারণে বেশ উঠা-নামা করেছিল পেঁয়াজের দাম; তাও এখন অনেকটা স্থিতিশীল আছে। তবে জিরা ও কালোজিরার দাম বেড়েছে।

রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আদা মানভেদে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচ কেজি প্রতি (ছোট) ১২০০ টাকা, মাঝারি ১৪০০ টাকা, বড় ১৬০০ টাকা; দারুচিনি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা; লবঙ্গ ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা; গোলমরিচ ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা; কিচমিচ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা; বাদাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা; তেজপাতা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। গত কয়েক মাস ধরে এই দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব মসলা জাতীয় দ্রব্য।

তবে সপ্তাহের ব্যবধানে জিরা ও কালোজিরার দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে সপ্তাহ খানেক আগে কেজি প্রতি ২৩৫ টাকা থেকে ২৯০ টাকায় জিরা বিক্রি হলেও তা এখন ৩৩০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে এর বিক্রয়মূল্য ৩৬০ থেকে ৪৫০ টাকা। একই সময়ে কালোজিরার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। গত কয়েকদিন আগে কেজি প্রতি ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকায় কালোজিরা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০০ টাকা থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শ্যামবাজারের হাজী মো. চাঁন মিয়া ট্রেডার্সের মালিক চাঁন মিয়া অর্থসূচককে জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর মসলার দাম অনেক কম রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে মসলার দাম তেমন বাড়েনি। আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম কম থাকায়, আমাদের বাজারেও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে ভালো মানের জিরার সংকট থাকায় এর দাম কিছুটা বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের গরম মসলার খুচরা বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে মসলার দাম কম রয়েছে। কোরবানি ঈদেও এই দাম স্থিতিশীল থাকবে।

তবে মসলা ব্যবসায়ীরা জানান, রাজধানীর বাজারগুলোতে এখনও ঈদের বেচাকেনা জমেনি। ঈদের একদিন আগে ভালো বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন তারা।

তবে কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে খুচরা ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি জিরা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা; এলাচ ১৩২০ থেকে ১৭০০ টাকা; দারুচিনি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা; লবঙ্গ ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা এবং তেজপাতা ১৮০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে স্থিতিশীল রয়েছে পেঁয়াজের দামও।পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আর খুচরা বাজারে মানভেদে তা ৬০ টাকা থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি পাইকারি বাজারে ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় রসুন বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে এর দাম পড়ছে ৭০ টাকা থেকে ১২০ টাকা।

পাইকারি বাজারে শুকনা গুঁড়া মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা; হলুদ ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা; ধনিয়া ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর বিপরীতে খুচরা বাজারে গুঁড় মরিচ প্রতি কেজি ১৮০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা; হলুদ ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকা; ধনিয়া ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন তেল তীর (৫ লিটার) ৪৬০ টাকা, পুষ্টি (৫ লিটার) ৪৬০ টাকা, রুপচাঁদা (৫ লিটার) ৪৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এমএইচ/

এই বিভাগের আরো সংবাদ