আশুগঞ্জে ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

আশুগঞ্জে ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (পূর্ব) প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

একনেক সভা

একনেক সভা

আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (পূর্ব) প্রকল্পসহ আজ মোট ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর বিষয়ে ব্রিফ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ. মান্নান। তিনি বলেন, আজকের সভায় অনুমোদন দেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮২৫ কোটি ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ৩১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়ন, ২ হাজার ৩৫৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য এবং ১৫২ কোটি ৪০ লাখ সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী এম.এ. মান্নান বলেন, আজকের সভায় অনুমোদন দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি হলো, আশুগঞ্জ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (পূর্ব)। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিডেটকে (এপিএসসিএল) ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এই প্লান্ট স্থাপনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ২ হাজার ৩৫৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা প্রকল্প সাহায্য, ৪২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং ১৫২ কোটি ৪০ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে।

তিনি বলেন, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাজধানী ঢাকা শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি পাঁচটি তাপ-বিদ্যুৎ ইউনিট, একটি কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট এবং একটি গ্যাস ইঞ্জিন প্লান্টের সমন্বয়ে গঠিত। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ঢাকা শহরেও এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় উচ্চ জ্বালানি দক্ষতাসম্পন্ন গ্যাস টারবাইট, স্টিম টারবাইট, স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার, গ্যাস ইন্সুলেটেড সুইস গ্যায়ার সিস্টেম ও কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রতিস্থাপন করা হবে। ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা ও এই খাতের স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, কক্সবাজারের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ- ১ম সংশোধিত, সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন- ২য় সংশোধিত, নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার শিবপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প, কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোড়ের উভয় পাশ্বে (কুড়িল হতে বালু নদী পযন্ত) ১০০ ফুট খনন ও উন্নয়ন প্রকল্প এবং কক্সবাজার-টেকনাফ-মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প- ৩য় পর্যায় (শিলখালী থেকে টেকনাফ)।

এর মধ্যে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, কক্সবাজারের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ- ১ম সংশোধিত প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে বন অধিদপ্তর। সিরাজগঞ্জ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ স্থাপন- ২য় সংশোধিত’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এপ্রিল ২০১৫ থেকে জুন ২০১৮ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার শিবপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

এছাড়া ঢাকা মহানগরীর পানি দ্রুত নিষ্কাশনে পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে কুড়িল থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল খনন ও লেক উন্নয়নের জন্য কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোড়ের উভয় পাশ্বে (কুড়িল হতে বালু নদী পযন্ত) ১০০ ফুট খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৩০ কোটি ১৩ টাকা। সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে আগস্ট ২০১৮ মেয়াদে এর বাস্তবায়ন করবে রাজউক। কক্সবাজার-টেকনাফ-মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প- ৩য় পর্যায় (শিলখালী থেকে টেকনাফ) প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ টাকা।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সচিব সফিকুল আজম প্রমুখ।

এমআই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ