রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে হচ্ছে ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে হচ্ছে ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল

একটু পানি হলেই রাজধানীর চেহারা যেন মলিন হয়ে যায়। পানিতে ভাসে ফুটপাত। রাজপথের কোথাও কোথাও পরিণত হয় দীর্ঘ খালে। ভোগান্তি বাড়ে চাকরিজীবী থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালার; রাস্তার ফেরিওয়ালার। প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটুর ওপরে তুললে রক্ষা নেই। এবার এসব সংকট থেকে একটু হলেও নড়ে চড়ে বসছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে কুড়িল থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত ১০০ ফুট প্রশস্ত খাল খনন ও লেক উন্নয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

গত কয়েকদিন আগে ভারী বর্ষণে রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ছবি অর্থসূচক

গত কয়েকদিন আগে ভারী বর্ষণে রাজধানীর বেশকিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ছবি অর্থসূচক

এতে করে নগরীর নিকুঞ্জ, বারিধারা, জোহারা সাহারা, ডিওএইচএস, ক্যান্টনমেন্ট, শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর কালাচাদপুরসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধাতা দূর হবে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ ও গ্রাউন্ড ওয়াটার রিচার্জির ক্ষমতা বাড়বে।

এজন্য সরকার সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোড়ের উভয় পাশ্বে (কুড়িল হতে বালু নদী পযন্ত) ১০০ ফুট খনন ও উন্নয়ন’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানিয়েছেন, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় একনেক সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উঠানো হবে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৮তম সভা এটি। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মাধ্যমে বর্ষাকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ডিওএইচএস, বারিধারা এবং বিমানবন্দর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে করা হবে। এছাড়া পানি সংরক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খাল সংস্কারসহ জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে সংলগ্ন এসব এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন এবং নতুন কালভার্ট ও তীর রক্ষার মাধ্যমে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন করাই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন দাতা সংস্থার সরকারের আর্থিক সহায়তায় রাজউক ২০ বছর মেয়াদি ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) প্রণয়ন করে। তারে অংশ হিসেবে ডিটেইন্ড এরিয়ার প্ল্যানের (ড্যাপ) নির্দেশে প্রকল্পটি শুরু হচ্ছে। ড্যাপ কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোড সড়কটির উভয় পাশে বালু নদী পযন্ত ১০০ ফুট প্রস্থের খাল খননের নির্দেশনা দেওয়ায় প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগস্ট ২০১৮ সাল মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন সংস্থা (রাজউক)।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই প্রকল্পটি নিয়ে পিইসি সভায় আলোচনা হয়। সেখান থেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্পটির প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ৯৮ দশমিক ৪৬ একর জমি অধিগ্রহণ,৭ লাখ ২৮ হাজার ৫২২ ঘন মিটার মাঠি খনন,৫হাজার বর্গমিটার ব্রীজ নির্মাণ,১৩ হাজার বর্তমিটার ওয়াক ওয়ে নির্মাণ, ১৩ হাজার ৯শ বর্গমিটার সীমানানির্মাণ,২ লাখ ৭ হাজার ৯২৪ বর্গমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ, ৮৭ হাজার ৬৬৩ দশমিক ৮৮ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ, পাঁচ লাখ ৪৬ হাজার ৩৯২ দশমিক ২৩ ঘনমিটার মেকানিক্যাল কম্প্যাকশন।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির গেজেট প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারণে প্রকল্পটি অনুমোদন পাচ্ছিলো না।দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে পূর্বাচলের লিংক রোডের উভয় পাশে কুড়িল থেকে বোয়ালিয়া পর্যন্ত ১০০ ফুট প্রশস্ত দুইটি খাল খননের প্রকল্পটি অনুমোদন পাচ্ছে।
প্রকল্পটির বিষয়ে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন বিভাগের সদস্য আরস্তু খান বলেন, ড্যাপের নির্দশনা মোতাবেক কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পাশে ২টি খাল খননের প্রকল্পটি আগামীকাল অনুমোদনের জন্য একনেকে পেশ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও ঢাকা নগরীর পানি রেটিও ঠিক রেখে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ঢাকাবাসী বিনোদনের জন্য একটা জায়গা পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এমআই/

এই বিভাগের আরো সংবাদ