ArthoSuchak
বুধবার, ১লা এপ্রিল, ২০২০ ইং
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » আপনার জিজ্ঞাসা

এফআরএতে আমাদের কী লাভ?

সিলেটের জিন্দাবাজার এলাকার মিজানুল হক জানতে চেয়েছেন, জাতীয় সংসদে  ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট (এফআরএ) পাস হওয়ায় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কোনো লাভ হবে কি-না।

ধন্যবাদ মিজানুল হক। আপনার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। আমরা সবাই জানি, দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর আলোচনা-সমালোচনার পর চলতি মাসে জাতীয় সংসদে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট বা এফআরএ পাস হয়েছে। এক দশকেরও বেশী সময় ধরে অর্থনীতিবিদ এবং পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা এ আইনের তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে একটি মহল শুরু থেকেই এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগের বিরোধিতা করছিল। শক্তিশালী এ লবিকে সামলে আইন পাস করা সহজ ছিল না। তবে বর্তমান সরকার অনেক সাহস ও যথেষ্ট দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের অনমনীয় মনোভাবের কারণেই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেছে আইনটি। আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের সকলকে এর জন্য অভিনন্দন জানাই, ধন্যবাদ জানাই।

FRA

এফআরএ-প্রতীক

আইনটি পাসের সময় সংসদে আনা বিলে এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনটি পাস হওয়ায় কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি নিরীক্ষা সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে।

এফআরএ’র কারণে বাজারে শেয়ারের দাম বেড়ে যাবে-এমন নয়। কিন্তু আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা বাড়লে কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার প্রকৃতচিত্র জানতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা। সে অনুসারে তারা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এতে প্রতারণা ও কারসাজির হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবেন তারা।

ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইনে এনজিও, বাণিজ্যিক কোম্পানি ও সরকারি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। এ সংস্থা নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স দেবে, তাদের কার্যক্রম মনিটর করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান আইনের লংঘন করলে তার বিরুদ্ধে জরিমানা এমনকি ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

কার্যকর এফআরসি গঠন করা গেলে নিশ্চিতভাবেই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আমরা জানি, পুঁজিবাজারে কারসাজির অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে আর্থিক প্রতিবেদন তথা বিকৃত হিসাববিবরণী। একাউন্টিংয়ের ভাষায় একে Accounts Tempering, Accounts Manipulation, Window Dressing ইত্যাদি  নামে অভিহিত করা হয়।

পুঁজিবাজারে কিছু অতিলোভী উদ্যোক্তা অসাধু নিরীক্ষকের সাথে যোগসাজশ করে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক চিত্র আড়াল করে মুনাফা বাড়িয়ে বা কমিয়ে দেখায়। আর এর মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয় শেয়ারের মূল্যকে।

আইপিওতে আসার আগে কারসাজির মাধ্যমে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়, যাতে বাড়তি প্রিমিয়াম পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ডিসক্লোজারভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আইপিও অনুমোদন করে থাকে। তাই চার্টার্ড একাউনটেন্সি ফার্মের নীরিক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রদর্শিত মুনাফা, ইপিএস, এনএভির আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রস্তাব করা প্রিমিয়াম যৌক্তিক কিনা। অনেক সময়ই এসব আর্থিক প্রতিবেদনের কারণে বিএসইসির ভুল (Misguided) হয়। দূর্বল কোম্পানিও অনেক প্রিমিয়াম পেয়ে যায়। এতে দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজার ও এ বাজারের বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে কখনো কখনো কোম্পানির মুনাফা কমিয়ে দেখিয়ে বিনিয়োগকারী ও সরকারকে বঞ্চিত করা হয়। বিনিয়োগকারী তার প্রাপ্য  লভ্যাংশ পায় না। অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হয় তার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে।

অতীতে বিএসইসি বেশ কিছু কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। এ ব্যাপারে আইসিএবিকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এফআরসি হলে নীরিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা বাড়বে। এতে আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতি কমে আসবে। কোনো নীরিক্ষকের বিরুদ্ধে হিসাব কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এসব কারণে কারসাজি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ