বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে ফুঁসছে আসাম
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » লিড নিউজ

বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে ফুঁসছে আসাম

নরেন্দ্র মোদি সরকারের বাংলাদেশি হিন্দু অভিবাসীদের আসামে থাকতে দেওয়ার সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে; ফুঁসে উঠছেন তারা। যদিও বাংলাদেশি হিন্দুরা বলছেন, তাদের ফিরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

দ্যঅয়ার নামে ভারতের একটি অনলাইন পোর্টালে আজ রোববার এ খবর জানানো হয়েছে।

 অমুসলিম বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অল আসাম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশের (এএএসইউ) নেতৃত্বে রাজ্যের প্রায় সব জেলায়ই গত ৩ দিন বিক্ষোভ ও মিছিল হয়েছে। ছবি পিটিআই।


অমুসলিম বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অল আসাম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশের (এএএসইউ) নেতৃত্বে রাজ্যের প্রায় সব জেলায়ই গত ৩ দিন বিক্ষোভ ও মিছিল হয়েছে। ছবি পিটিআই।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অমুসলিম বাংলাদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যাপারে মোদি সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অল আসাম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশের (এএএসইউ) নেতৃত্বে রাজ্যের প্রায় সব জেলায়ই গত ৩ দিন বিক্ষোভ ও মিছিল হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যেসব লোকজন ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে গেছেন তাদের ভিসার সময় পার হয়ে গেলেও তারা ভারতে থেকে যেতে পারবেন গত ৭ সেপ্টেম্বর বৈধতা দেয় ভারত।

গত কয়েক মাস ধরেই বিষয়টি নিয়ে কথা শোনা যাচ্ছিল। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭ সেপ্টেম্বর রাতে এক বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করে।

ভারত সরকারের হিসাব মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া এ ধরনের হিন্দু ও শিখের সংখ্যা ২ লাখের মতো।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সরকারের ওই বিবৃতিতে পাকিস্তানের হিন্দুদেরও বৈধতা দেওয়ার কথা বলা হলেও বিষয়টি আসামে পেয়েছে ভিন্ন রূপ। ১৯৮০’র দশকের প্রথম দিকে এএএসইউ নেতৃত্বেই নথিবিহীন অভিবাসী ইস্যুতে আন্দোলন শুরু হয়। এর একপর্যায়ে  সৃষ্ট সহিংসতায় অনেক আন্দোলনকারী মারা যায়। এ ইস্যুতে ১৯৮৫ সালে রাজিব গান্ধীর সরকারের সঙ্গে  এেরেরর নেতাদের এক চুক্তিতে (আসাম অ্যাকর্ড) এ আন্দোলনের অবসান হয়। যদিও চুক্তির অনেকগুলো ধারা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

দ্যঅয়ার জানায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর এএএসইউ এর শত শত সদস্য অবিলম্বে আসাম অ্যাকর্ডের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও নথিহীন বাংলাদেশি অভিবাসীদের বের করে দেওয়ার দাবি নিয়ে রাস্তায় নামেন। এসময় তারা কেন্দ্রীয় সরকারের ওই বিবৃতির অনুলিপিতে আগুন ধরিয়ে দেন। পুরো পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে, ৩০ বছর আগের আন্দোলনের সেই চেহারা ফুটে ওঠেছে আসামে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, তাদের ক্ষোভ উস্কে দিয়েছেন গভর্নর পি.বি আচার্যের এক বিবৃতি; যাতে তিনি বলেছেন, আসাম অ্যাকর্ড নিয়ে আর কিছু করার নেই। তার এই বক্তব্যের পর ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় টর্চ হাতে রাস্তায় নামে এএএসইউ সদস্যরা। এসময় তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মিছিলে যোগ দেয় আসামের ২৬টি সংগঠন।

অর্থসূচক/শাহীন

এই বিভাগের আরো সংবাদ