লিঙ্গ পরিবর্তন কলকাতার সরকারি হাসপাতালেও
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » বিবিধ

 লিঙ্গ পরিবর্তন কলকাতার সরকারি হাসপাতালেও

সরকারি ত্বত্তাবধানে এবার ভারতের কলকাতায় চালু হচ্ছে মানুষের লিঙ্গ পরিবর্তনের ব্যবস্থা। এখন থেকে রাজ্যের ‘আর জি কর’ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারির মাধ্যমে নর-নারী উভয়েই লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারবেন। বলা হচ্ছে রূপান্তরকামীদের (লিঙ্গ পরিবর্তনে ইচ্ছুক নারী-পুরুষ) লৈঙ্গিক স্বাধীনতা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ বিশেষ পদ্ধতিটি চালু করা হচ্ছে।

hrituporna gosh

ভারতীয় বাঙ্গালি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের অকালমৃত্যুর পর রাজ্যে রূপান্তরকামীদের যৌন স্বাধীনতার বিষয়টি সবার নজরে আসে।

কলকাতার সংবাদপত্র এই সময়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচার করে রূপান্তরকামী মহিলাদের স্ত্রী গোপনাঙ্গ আর রূপান্তরকামী পুরুষদের পুরুষ জননাঙ্গ তৈরি করে দেওয়ার কাজটি রাজ্যে প্রথম। আর সারাদেশের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রাথমিক স্তরে সরকারিভাবে শহরের আর জি কর হাসপাতালে এ সেবা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় বাঙ্গালি চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের অকালমৃত্যুর পর রাজ্যে রূপান্তরকামীদের যৌন স্বাধীনতার বিষয়টি সবার নজরে আসে। ঘোষ ছিলেন একজন স্বঘোষিত সমকামী। তিনি নিজে পুরুষ লিঙ্গ পরিবর্তন করে মেয়েতে পরিণত হয়েছিলেন।এছড়া জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি ট্রান্সজেন্ডার ও এলজিবিটি অধিকার নিয়ে কাজ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঋতুপর্ণ ঘোষের অকালমৃত্যুর পরই প্রশ্নটা উঠেছিল আর জি করের অন্দরে। পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অনিন্দ্য রায় হাসপাতালের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লিঙ্গ পরিবর্তনের গরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দেন। তারই সূত্র ধরে রাজ্য সরকার আজকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এদিকে হাসপাতাল সূত্র জানায়, কাউন্সেলিং থেকে শুরু করে হরমোনাল থেরাপি এবং রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির জন্য যাবতীয় বন্দোবস্ত করা হবে এখানে। এর জন্য চালু করা হবে নির্দিষ্ট বহির্বিভাগ। আর সেখানে রূপান্তরকামীদের জন্য চারটি কেবিন রাখা। কোনো ইচ্ছুক ব্যক্তি এলে, সেখানেই যাবতীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে তাদের। আপাতত সপ্তাহে শনিবার এই হাসপাতাল চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রূপান্তরকামীদের বিষয়ে চিকিৎসকদের মতামতের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন মানুষ যখন তার জন্মগত লিঙ্গ পরিবর্তন করার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে নানা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। আর  এর চিকিৎসা সেবাও জটিল হওয়ায় তাকে ঘুরতে হয় একাধিক হাসপাতালে। তবে এখন থেকে লিঙ্গ পরিবর্তনে ইচ্ছুক পুরুষ মহিলাদের সরকারি উদ্যোগে আর জি কর হাসপাতালে সব ধরণের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে।

এদিকে চিকিৎসকরা জানান, হয়তো কোনো পুরুষ মানসিকভাবে নিজেকে নারী বলে মনে করেন। কিন্তু তার মনে করা আর নারীসত্তার পরিচয় নিয়ে বাকি জীবনটা কাটানোর মধ্যে পার্থক্য অনেক। তাই কোনো রূপান্তরকামী সেক্স চেঞ্জ করাতে চাইলে প্রথমেই কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বুঝে নেওয়া হয়, তিনি মূলত কতটা নারী বা পুরুষসত্তার অধিকারী। চিকিৎসা পদ্ধতি শুরুর আগে সেই ব্যক্তিকে তাই অন্তত একবছর সেই মানসিক সত্তা (নারী বা পুরুষ, যে যে ভাবে নিজেকে কল্পনা করেন) নিয়ে কাটাতে বলা হয়।

ওই হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান রূপনারায়ণ ভট্টাচার্য বলেন, অস্ত্রোপচার বলতে, বর্তমান যৌনাঙ্গ বাদ দিয়ে নতুন যৌনাঙ্গ তৈরি। হরমোনাল থেরাপির পর সেই ব্যক্তির শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা বিচার করে তারপরই কেবল অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চিকিৎসকরা আরও জানান, যেহেতু হরমোনের পরিবর্তনই আমাদের আচার-ব্যবহার এবং মানসিক সত্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে তাই যদি কোনও পুরুষ মহিলা হতে চান, তাহলে তাকে টেস্টোস্টেরন কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়। যার ফলে, বাহ্যিক পুরুষালি বৈশিষ্ট্যগুলো (গোঁফ-দাড়ি গজানো) প্রকাশ পাওয়া বন্ধ হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রূপান্তরকামীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যাপারে ইতোমধ্যেই হাসপাতালের এথিকাল কমিটি এবং কলেজ কমিটির পক্ষ থেকে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে।  প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী শশী পাঁজার সঙ্গেও৷

এদিকে মন্ত্রী শশী পাঁজা জানান, ‘আমরা খুবই উৎসাহী এ ক্লিনিকের ব্যপারে। যত তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে সবুজ সঙ্কেত আসবে, আমরা ট্রান্সজেন্ডার বোর্ডের মাধ্যমে তত তাড়াতাড়ি অনুমোদন দিয়ে দেব এই ক্লিনিকের।’

ই.রা/

এই বিভাগের আরো সংবাদ