‘চামড়া সংকট হবে না, তবে পাচারের শঙ্কা’
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » পণ্যবাজার

‘চামড়া সংকট হবে না, তবে পাচারের শঙ্কা’

tanary

ফাইল ছবি

ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধে হাজারীবাগের ট্যানারিতে কাঁচা চামড়ার সংকটের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। তারা বলছেন, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধে ১৫ থেকে ২০ লাখ পিস চামড়া সংকটের আশঙ্কা করা হলেও মায়ানমার থেকে গরু আসলে এ সংকট পূরণ হবে। এছাড়া দেশেও পর্যাপ্ত পশু মজুদ আছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) জানায়, প্রতি বছর ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকরা ৩০ থেকে ৪০ লাখ গরু-মহিষ এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ ছাগলের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। এজন্য প্রতিবছর সংগঠনটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে থাকে। তবে এ বছর ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ থাকলেও এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিটিএ অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

তিনি অর্থসূচককে বলেন, পশুর চামড়া নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। এর কারণ হিসেবে মায়ানমার থেকে গরু আমদানির পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি চামড়ার নেতিবাচক চাহিদার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মিজানুর জানান, ডলারের সাথে ইউরো সমতা বজায় রাখতে পারছে না। ডলারের চেয়ে ইউরোর মান ১৫ থেকে ২০ সেন্ট কমে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা আমাদের চামড়ার বেশি মূল্য দিচ্ছে না। তাই বিদেশি চাহিদা কম থাকায় চামড়ার দাম নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

তবে সংগঠনটির সাবেক মহাসচিব মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা সত্ত্বেও বিদেশি ক্রেতারা আমাদের চামড়ার বেশি মূল্য দিচ্ছে না। তারা অজুহাত দেখায়, আমরা পরিবেশ দূষণ করি। তবে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরিত হলে এ শিল্প অনেক এগিয়ে যাবে।

এবার ঈদে চামড়ার সংকট হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সম্ভাবনা কিছুটা আছে। আবার নাও হতে পারে। তবে সংকট সৃষ্টি হলে আমরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাবো।’

পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, এ বছর ঈদুল আযাহার জন্য ৩০ লাখ গরু-মহিষ ও ৬৯ লাখ ছাগল মজুদ আছে। এছাড়া সামান্য সংকট থাকলেও তা মায়ানমার থেকে আমাদানি করা হবে বলে জানা যায়।

অন্যদিকে, প্রতিবছরের মতো এবারও পার্শবর্তী দেশ ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন ট্যানারি মালিকরা। ঈদুল আযহাকে ঘিরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় ভারতে চামড়া পাচার করে থাকেন বলে জানান তারা। চামড়ার পাচার ঠেকাতে বিভিন্ন বর্ডার এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

বিটিএ অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানান, ঈদুল আযাহা আসলেই আমরা আশঙ্কায় থাকি, আমাদের চামড়া পাচার হয়ে যায় কিনা! কেননা, এই সময়ের চামড়ার গুণগত মান অনেক ভালো থাকে। তাই ভারতেও এ চামড়ার চাহিদা বেশি। তিনি জানান, ঈদের পরে এক দেড় মাস বর্ডারে যাতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়, সে বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।

এমএইচ/

এই বিভাগের আরো সংবাদ