ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যায় চার্জশিট
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » অপরাধ ও আইন

ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যায় চার্জশিট

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু হত্যা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ সদস্যকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের দক্ষিণ বেগুনবাড়ীতে প্রকাশ্যে ওয়াশিকুরকে হত্যা করা হয়।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের দক্ষিণ বেগুনবাড়ীতে প্রকাশ্যে ওয়াশিকুরকে হত্যা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মুখপাত্র ও যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এ কথা জানান তিনি।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন জিকরুল্লাহ, আরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জুনায়েদ ওরফে তাহের ও হাসিব আবদুল্লাহ। এদের মধ্যে জিকরুল্লাহ, আরিফুল ও সাইফুল কারাগারে আছেন। এছাড়া জুনায়েদ ও হাসিব পলাতক রয়েছে।

যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ওয়াশিকুর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হাসিব। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। লেখালেখির কারণেই তারা ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছেন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা চলছে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩০ মার্চ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের দক্ষিণ বেগুনবাড়ীতে প্রকাশ্যে ওয়াশিকুরকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলেই ধরা পড়েন জিকরুল্লাহ ও আরিফুল।

৩১ মার্চ তার ভগ্নিপতি মনির হোসেন বাদী হয়ে জিকরুল্লাহ ও আরিফুলসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তভার ডিবিকে দেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের পাঁচ সদস্যের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুজন তৃতীয় লিঙ্গসহ (হিজড়া) অন্তত ১০ জনকে এই মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল এই হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দি ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, হাসিব ও সাইফুলের পরিকল্পনা এবং নির্দেশনায় জিকরুল্লাহ, আরিফুল ও জুনায়েদ সরাসরি হত্যায় অংশ নেন। এর মধ্যে জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ধরা পড়েন। তারা মাদ্রাসার ছাত্র। আর জুনায়েদ পালিয়ে যান। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, জুনায়েদ রাজধানীর একটি মাদ্রাসার ছাত্র। তার বাড়ি হবিগঞ্জে।

গ্রেপ্তারের পর জিকরুল্লাহ ও আরিফুল পুলিশকে বলেছিলেন, মাসুম নামের এক বড় ভাই হত্যার আগের দিন তাদের নিয়ে হাতিরঝিলে বৈঠক করেন। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মাসুমের প্রকৃত নাম হাসিব।

জিকরুল্লাহ ও আরিফুল রিমান্ডে ডিবিকে বলেছিলেন, সাইফুল বেগুনবাড়িতে ওয়াশিকুরের বাসার পাশে তাদের জন্য ঘর ভাড়া করে দিয়েছিলেন। এর আগে যাত্রাবাড়ী এলাকায় তারা ভাড়া বাসায় থাকতেন।

ওয়াশিকুর হত্যার পাঁচ দিন আগেই ধারালো অস্ত্রসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন সাইফুল। পরে হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এ মামলায় সাইফুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এডিসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে আরও চার-পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পরে নাম-পরিচয় পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

ওয়াশিকুর (২৭) তেজগাঁও কলেজ থেকে লেখাপড়া শেষ করে মতিঝিলে একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে শিক্ষানবিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন। একটি ব্লগে ‘বোকা মানব’ নামে কিছুদিন লিখলেও তিনি মূলত ফেসবুকে কয়েকটি নামে নানা ধরনের লেখা প্রকাশ করতেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ