জয়নাল হাজারীর খালাসের রায় বাতিল
today-news
brac-epl
প্রচ্ছদ » জাতীয়

জয়নাল হাজারীর খালাসের রায় বাতিল

অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারীকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল করেছে আপিল বিভাগ। হাইকোর্টে নতুন করে এই মামলার আপিল শুনানির জন্য আজ সোমবার নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।

Joynal Hazari3

সাবেক সংসদ সদস্য ও ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল হাজারী।

জয়নাল হাজারীকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস.কে.) সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

আদালতে দুদুকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। জয়নাল হাজারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার।

শুনানি শেষে খুরশীদ আলম বলেন, আপিল বিভাগ হাজারীর খালাসের রায় বাতিল করেছেন। এখন হাইকোর্টে তার করা আপিলের পুনঃশুনানি হবে।

গত তত্ত্ববাধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ২ অক্টোবর জ্ঞাত আয় বর্হ্ভিূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফেনী থানায় আওয়ামী লীগ নেতা হাজারীর বিরুদ্ধে এই মামলা করেন দুদকের উপ পরিচালক সফিকুর রহমান ভূইয়া।

এতে হাজারীর কাছে ঘোষিত আয়ের বাইরে ১ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ টাকার সম্পদ থাকার কথা বলা হয় এবং তিনি নিজের এক কোটি টাকা বোনের নামে এককালীন আমানত হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়।

২০০৮ সালের ২৭ নভেম্বর এই মামলার রায়ে হাজারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত। তার সম্পদ থেকে এক কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ হয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন হাজারী। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর তার আপিল মঞ্জুর করে সাজার রায় বাতিল করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৪ এপ্রিল লিভ টু আপিল করে দুদক।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সাংসদ থাকাকালে জয়নাল হাজারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ ওঠে। হাজারীর কর্মকাণ্ডের কারণে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।

২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৬ আগস্ট রাতে যৌথবাহিনীর (বিডিআর-পুলিশ) তল্লাশির সময় পালিয়ে ভারতে চলে যান ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হাজারী। আট বছর দেশের বাইরে থাকার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে দেশে ফেরেন তিনি। অর্থ পাচারের একটি মামলায় জামিন চাইতে গেলে ওই বছর ১৫ এপ্রিল আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পলাতক অবস্থায় হাজারীর বিরুদ্ধে মোট ২৭টি মামলা হয়, যার মধ্যে পাঁচটিতে সাজার রায় হলেও উচ্চ আদালত তাকে সবগুলোতেই খালাস দেয়।

বহু ঘটনায় বিতর্কিত এই রাজনীতিবিদ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও সেগুলো বাতিল হয়ে যায়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ